
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দলটির নির্বাচন দাবি করা স্বাভাবিক ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। আমরা যেহেতু জনগণের শাসন, রাজনৈতিক শক্তি, গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি স্বাভাবিকভাবে আমরা নির্বাচন চাইব। জনগণের কাছে ভোট চাইব, দেশে নির্বাচন চাইব।’
‘‘অথচ এই ‘স্বাভাবিক ব্যাপারকে’ কিছু লোক অস্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। আমাদের ভাবতে হবে, এর পেছনে কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আছে কি না। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে নির্বাচন বিলম্বিত হলে কারা সুবিধা পাবে, কার স্বার্থ উদ্ধার হবে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক উদবাতুল বারী আবু।
বিএনপি দেশের মধ্যে অস্থিরতা দেখতে চায় না উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বহু অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রত্যেকটি রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমরা চাই এখন দেশ গঠন করতে। স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে। কারণ দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন যদি আমাদের ঘটাতে হয় তবে অবশ্যই দেশে স্থিতিশীলতা আনা অত্যন্ত জরুরি।’
তারেক রহমান শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কিছু ব্যক্তির বক্তব্যে বিভিন্ন রকম অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। আমরা দেখছি অর্থনীতিতে অস্থির অবস্থা, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা। প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা। আমরা এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। আমরা আশা করি- সরকার মসৃণভাবে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করবে, এতে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক যাত্রা তত গতিশীল হবে। আমরা আশা করবো, সরকারের প্রতি মানুষের যে নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা, সে নিরপেক্ষতা তারা বজায় রাখবেন।’
প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি আমরা গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে পারি, গণতন্ত্রের চর্চাকে অব্যাহত রাখতে পারি তাহলেই দেশকে ও মানুষকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। আমরা যত বেশি দেশে গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে পারব- দেশে ততই মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো। তত বেশি আমরা দেশ ও দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারব।’
তারেক রহমান বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় হওয়ার পর এখন আমাদের সামনে নতুন দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। এখন আমরা যত বেশি তর্ক বিতর্ক লিপ্ত হবো তত ক্ষতি হবে দেশের। ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ পেয়ে যাবে। তাই এই মুহুর্তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলোর ঐক্যে যেন ফাটল না ধরে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মামলা ও নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর বিএনপির কর্মীরা গুম, খুন,গায়েবি মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিএনপি আজ জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। তাই সকল প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।’
সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। আরও বক্তব্য দেন দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এদিকে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক পদে ইউসুফ মোল্লা টিপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাজিউর রহমান রাজিব নির্বাচিত হন।