
অসামাজিক কাজ দেখে ফেলায় বরগুনার বেতাগীতে শিশির ইসলাম (২২) নামে এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বেতাগী প্রেসক্লাব চত্বরে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীরা মানববন্ধন করেন। শিশির ইসলামের বেতাগী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নুরুম হকের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের দিন বেতাগী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্কুল পড়ুয়া তাহিম ও রুশবা প্রেমিক প্রেমিকা জুগল অসামাজিক কার্যকলাপ করছিলো। এ সময় বাসার জানালা দিয়ে শিশির তা দেখে ফেলে। শিশির যেনো কাউকে বিষয়টি না জানায় সে জন্য তাহিম তাকে টাকা পয়সা দিতে চায়। কিন্তু শিশির এতে রাজি না হলে তাহিম তার মামা শফিকুল ইসলাম ইরানকে বিষয়টি জানায়। পরদিন ইরান কয়েকজন লোক নিয়ে শিশিরকে তার বাসা থেকে ডেকে এনে প্রথমে শাসায়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ না হলে এক পর্যায়ে শিশিরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে শিশিরের স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইরানের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার প্রেসক্লব চত্বরে শিশিরের পরিবার ও এলাকাবাসী মানবন্ধন করেন। মানববন্ধনে শিশিরের বড় বোন শ্রাবনী হক বেলী, বেতাগী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান কবির, বেতাগী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. নেছার খান, বেতাগী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম সিদ্দিকী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম পান্না, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি কোয়েল সিকদার বক্তব্য রাখেন।
মারধরের শিকার মো. শিশির ইসলাম বলেন, ঈদের দিন গত সোমবার বিকালে একটি বাসার ভিতরে তাহিম ও রুশবাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলি। আমি যেনো বিষয়টি কাউকে না বলি এজন্য তাহিম আমাকে টাকা দিতে চায়। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় সে তার মামা ইরানকে বিষয়টি জানায়। পরদিন ইরান আমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর করে।
শিশিরের বড় বোন শ্রাবনী হক বেলি বলেন, আমার ভাই তাহিম রুশবার অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় ইরান তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। আমরা এর প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করবো। আমার এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।