পটুয়াখালী প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫ , আজকের সময় : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

মির্জগঞ্জে মাদক সম্রাট দুই ভাই পাভেল-হিমেলের নিয়ন্তনে মাদক ব্যবসা: একাধিক মামলা

মাদকে গ্রাসে পতিত হয়েছে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার তরুণ-যুবক শ্রেণি। অনেকটা প্রকাশ্যেই রাখঢাক না করে প্রশাসনে চোখের সামনে মাদক ব্যবসা করছে মির্জাগঞ্জের মাদক সম্রাটখ্যাত পাভেল হাওলাদার ও হিমেল হাওলাদার। পাভেল-হিমেল ভ্রাতৃদ্বয়ের মাদক ব্যবসা নতুন নয়। এলাকার সচেতন শ্রেণি একাধিকবার পাভেল-হিমেল ভ্রাতৃদ্বয়ের মাদক ব্যবসা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের সাথে দেন-দরবার করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পাভেল-হিমেলকে একাধিকবার ইয়াবা-গাজাসহ গ্রেফতার করলেও পুলিশের দুর্বল ফরোয়াডিংয়ের বদৌলতে জামিনে বেরিয়ে এসে ফিরে যায় মাদক ব্যবসায়।

মির্জাগঞ্জে মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র অধিপতি পাভেল-হিমেলকে নিয়ে এলাকায় কথা চালু আছে- ‘ওরা সরকার পার্টি, ওরা সব সময়ই থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সরকারি দলে।’ জানা যায়, পাভেল-হিমেলের পিতা আনিস হাওলাদার জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকায় বিগত আওয়ামী আমলের পুরো সময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে একালাকায় সন্ত্রাসে রাজত্ব কায়েম করেছেন। পিতার কাছে হাতেখড়ি নেয়া পাভেল-হিমেলও কম যান না। ‘বাপকা বেটা’র মতো পাভেল-হিমেল দুই ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করে। এই দুই ভাইয়ের দাপটে সে সময় ছাত্রলীগের অন্যান্য কর্মীরাও এলাকায় টিকতে পারেনি। ছাত্রলীগ করার সুবাদে এরা সব সময়ই প্রশাসনের ‘নেক’ নজরে থেকে এলাকায় যা ইচ্ছে তাই করেছে। প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে কামিয়েছে অঢেল অবৈধ অর্থ। আর এই অবৈধ অর্থের জোরে ওরা প্রশাসনকে ‘পকেটে’ রেখেই মাদক ব্যবসা করে আসছিল।

বিগত ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলেও মির্জাগঞ্জে পাভেল-হিমেলের পতন হয়নি। সবকিছু ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসায়ি এই ভ্রতৃদ্বয় পূর্বের মতই এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে করছে মাদক ব্যবসা। ওদের মাদকের ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই বলে এলাকাবাসী জানান।

একাধিক মামলার আসামি পাভেল-হিমেল : দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী, সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় ক্যাডার এই দুই ভাই। এদের নামে একাধিক মামলা থাকার পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
মামলার ফিরিস্তি: ১। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানায়, এফআইআর নং-৫, তারিখ-০৮ জুন, ২০২৪; জি আর নং-৫৬, তারিখ- ০৮ জুন। ধারা- ৪/৫ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সংশোধনী ২০০৯; তৎসহ ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬।

ছবি: ছাত্রলীগের নেতা সজলের সাথে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিমেল, বর্তমানে ছাত্রদলের নেতা।

২। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার, এফআইআর নং-১২, তারিখ- ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫; জিআর নং-১২, তারিখ- ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫। ধারা- ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩২৩/৫০৬(২)।

৩। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার, এফআইআর নং-৫, তারিখ- ০৯ মার্চ, ২০১৯; জি আর নং-২৬, তারিখ-০৯ মার্চ, ২০১৯। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৫০৬।

৪। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার, এফআইআর নং-৩, তারিখ- ০৭ আগস্ট, ২০২৫; জি আর নং-১০৬, তারিখ- ০৭ আগস্ট, ২০২৫। ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/৩৪।

৫। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার, এফআইআর নং-১৫, তারিখ- ২০ জুলাই, ২০২৪; জি আর নং-৮০, তারিখ- ২০ জুলাই, ২০২৪। ধারা-৩৬ (১) এর ১০(ক)/৪৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

 

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে পাবেল।