মনজুর মোরশেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫ , আজকের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা ভুতুরে নিয়েগ বোর্ডে অধ্যক্ষসহ ৫ পদে নিয়োগের অভিযোগ!

ভুতুরে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে অধ্যক্ষ ও কর্মচারীসহ পাঁচ পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া ইসলামিয়া নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসায়। প্রকাশ্যে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরও পেছনের তারিখ দিয়ে ফলাফল পাঠানো হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে। তবে ওই নথিতে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর নেই। এ ঘটনায় গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত আরা জামান উর্মিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৪ সালের ২ আগষ্ট দৈনিক ‘আজকের প্রভাত’ নামের নামসর্বস্ব একটি পত্রিকায় গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধ্যক্ষ, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের ঘোষণা দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

এরপর চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাছাই বোর্ড বসে। কিন্তু জমিদাতা, অভিভাবক সদস্য ও নিয়োগপ্রত্যাশীসহ এলাকাবাসী অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা দেন ইউএনও ইফ্ফাত আরা জামান উর্মি। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের কথাও জানান।

তবে কয়েক মাস নিরব থাকার পর সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয় নিয়োগ পরীক্ষার ফল। সেখানে পাঁচ পদে পাঁচজনকে নির্বাচিত দেখানো হয়েছে। কাগজে ইউএনওসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর থাকলেও মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর নেই।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) ও মহাপরিচালকের প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন বলেন,
“১ ফেব্রুয়ারি আমি নিজে বোর্ডে উপস্থিত ছিলাম। অনিয়মের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করি এবং ঢাকায় ফিরে আসি। ওখানে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। এমনকি পরে আর কোনো নিয়োগ বোর্ডও গঠন হয়নি। অথচ সম্প্রতি দেখলাম ওই তারিখে পরীক্ষা সম্পন্ন দেখিয়ে কাগজ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি কিভাবে এই লুকোচুরি করে সেএা বোধগম্য নয়। আমি এই কাগজটি দেখে ইউএনওকে ফোন দিয়েছিলাম। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে, নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হলোনা, মার্ক দেয়া হলোনা, তখন আমরা কেউ স্বাক্ষরও করিনি আপনার স্বাক্ষরিত এই ফলাফল তাহলে এলো কোথা থেকে? এসময় তিনি আমাকে বলেন তিনি কোন স্বাক্ষর করেনি। এমনকি ডিজি স্যারের সঙ্গে ফোনে একই কথা বলেছিলেন ইউএনও।”

এ বিষয়ে ইউএনও ও গভর্নিং বডির সভাপতি ইফ্ফাত আরা জামান উর্মি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে ১ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা স্থগিত হয়েছিল। পরে আবার ফলাফল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর যদি বৈধ মনে করে নিয়োগ দেবে, নইলে ব্যবস্থা নেবে।”
তবে ৩ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে নিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ পেছনের তারিখ দিয়ে কাগজে ফলাফল পাঠানো নিয়ে কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।