মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট): , আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ , আজকের সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

মোরেলগঞ্জে পরমহংসদেবের ১৩০তম শুভ আবির্ভাব উৎসবে ভক্তদের ঢল

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধর্মীয় ভক্তি, আনন্দ আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সম্মিলন ঘটল বৃহস্পতিবার সকালে। শ্রী গুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ শ্রীশ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবের ১৩০তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য মাঙ্গলিক শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা সভা।

সকাল ১১টায় শ্রী গুরু সংঘের উদ্যোগে মোরেলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সেরেস্তাদারবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গন থেকে ঠাকুরের প্রতিচ্ছবিসহ মাঙ্গলিক শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাক, কাঁসা ও শঙ্খধ্বনির মিষ্টি সুরে ভক্তরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরম ভক্তিভরে ঠাকুরের মহিমা স্মরণ করেন। শোভাযাত্রায় শত শত নারী, পুরুষ, পূজারি ও ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক অপরূপ ধর্মীয় পরিবেশ।

উৎসবমুখর এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল হক বাবুল, থানা অফিসার ইনচার্জ মতলুবর রহমান, এবং স্থানীয় বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রী গুরু সংঘের সভাপতি অসীম কর্মকার। সভায় বক্তারা বলেন, “শ্রীশ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেব ছিলেন মানবকল্যাণ ও ধর্মচেতনার প্রতীক। তাঁর আদর্শ আজও সমাজে শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রী গুরু সংঘ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দীপক কর্মকার। পাঁচ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের উদ্বোধন হয় সংঘের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গল আরতি, সমবেত প্রার্থনা, এবং ২৪ প্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ।

ভক্তদের মুখে তখন একটাই অনুভব — “ঠাকুর আমাদের জীবনে আলো, শান্তি আর সত্যের প্রতীক।”
এই উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং মোরেলগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের এক ঐতিহ্য ও আত্মিক ঐক্যের প্রতিচ্ছবি।