জুবায়ের আহমাদ জুয়েল (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): , আপলোডের সময় : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

তাড়াইলের মানুষের হৃদয়ে গাঁথা এক মানবিক পুলিশ অফিসার সাবেক ওসি সাব্বির রহমান

পুলিশ মানেই সাধারণ মানুষের কাছে ভয়, দূরত্ব আর কঠোরতার প্রতীক এমন ধারণা ভেঙে দিয়ে তাড়াইল থানায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সাবেক অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাব্বির রহমান। প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক থেকে শুরু করে সমাজের অবহেলিত মানুষের হৃদয়ে আজও গভীরভাবে গাঁথা তার নাম।

তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতীতে এমন মানবিক ওসি তারা খুব কমই দেখেছেন। সাব্বির রহমান ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি থানার চেয়ার আর ক্ষমতার আড়ালে নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। বরং থানায় আগত মানুষদের পাশে বসে, চা খেতে খেতে মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভিযোগ আর জীবনের গল্প। তার আচরণে ছিল না কোনো অহংকার বা ভাবগাম্ভীর্যতা।

গ্রামের অবহেলিত মানুষের সঙ্গে অনায়াসে মিশে যেতেন তিনি। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা শিল্পপতিদের চেয়েও সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও কথা তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেত। থানার সেবা যে জনগণের অধিকার এই বার্তাটি তিনি বারবার সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন।

সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিষয় ছিল, তিনি নিজেকে কখনো ‘স্যার’ বলতে দিতেন না। সবাইকে তাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে উৎসাহিত করতেন। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমে আসে, তৈরি হয় বিশ্বাস আর আত্মীয়তার সম্পর্ক।

তাড়াইলের বোরগাঁও গ্রামের আজিজুল হক নামে এক কৃষক বলেন,
“ওসি সাব্বির রহমান আমাদের কাছে পুলিশ না, আমাদের ভাই ছিল। থানায় গেলে ভয় লাগতো না, মনে হতো নিজের বাড়িতে গেছি।”

নেটিজেনদের অভিমতও একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, সাব্বির রহমানের মতো মানবিক, দায়িত্বশীল ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অফিসার যদি আরও তৈরি করা যায়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বহুগুণে বাড়বে।

সাবেক ওসি মোঃ সাব্বির রহমান প্রমাণ করে গেছেন ক্ষমতা দিয়ে নয়, ভালোবাসা, সম্মান আর মানবিক আচরণ দিয়েই মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তাড়াইলের মানুষের স্মৃতিতে তিনি থাকবেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নয়, একজন আপন মানুষ হিসেবেই।