জুবায়ের আহমাদ জুয়েল (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): , আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ , আজকের সময় : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রিকশার প্রার্থী হেদায়াতুল্লাহ হাদী

 

 

রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের হাওয়ায় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে নির্বাচনী মাঠে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দল ও পরিচিত মুখগুলোর বাইরে গিয়ে এবার সাধারণ ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী।

নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৪০৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭১ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছেন ৩ জন। বিপুল এই ভোটার জনগোষ্ঠীর মন জয় করাই এখন প্রার্থীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

একসময় এ আসনে টানা আধিপত্য ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দ মোঃ আশরাফুল ইসলামের। তার মৃত্যুর পর ছোট বোন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি আসনটি ধরে রাখলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন বিশেষ করে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুরো চিত্রটাই পাল্টে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মাজহারুল ইসলামকে অনেকটাই কোণঠাসা করে ফেলেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যক্ষ মুসাদ্দেক আলী ভূঁইয়ার (দাঁড়িপাল্লা) প্রচারণা দৃশ্যমান হলেও তা জনমনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রফেসর আজিজুর রহমান জার্মানি (হাতপাখা) রাজনীতিতে নতুন হওয়ায় মাঠপর্যায়ে তার উপস্থিতিও সীমিত।

এরই মধ্যে ভিন্ন এক ধারায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী। রিকশা প্রতীক নিয়ে তিনি কেবল একজন প্রার্থীই নন তিনি শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একযোগে ১০টি জেলার ৪৩টি সংসদীয় আসনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী রাজনীতিতে সক্রিয় হেদায়াতুল্লাহ হাদী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় নিজেকে একজন তুখোর সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতীতেও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। ফলে সদর ও হোসেনপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক প্রভাব, ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা সব মিলিয়ে তারা একজন “পরিচ্ছন্ন ও সাহসী নেতৃত্ব” খুঁজছেন। অনেকের চোখে সেই জায়গাটিই পূরণ করছেন মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রচলিত দলীয় বলয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন রিকশার এই প্রার্থী। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী আলোচনায় এখন সবচেয়ে উচ্চারিত নাম মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী।