জুবায়ের আহমাদ জুয়েল (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): , আপলোডের সময় : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

তাড়াইল উপজেলার কাঁচারি পুকুর ময়লার ভাগাড়: সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাঁচারি পুকুর আজ চরম অবহেলা আর দখল-দূষণের শিকার। এক সময়ের নান্দনিক ও ঐতিহাসিক এ জলাশয়টি এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। পলিথিন, প্লাস্টিক, বাজারের বর্জ্য আর নোংরা আবর্জনায় ভরে গেছে শতবছরের স্মৃতিবাহী পুকুরটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের কিছু অসচেতন মানুষ পুকুরঘাটে দাঁড়িয়ে পশ্চিমমুখী হয়ে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন, যা শুধু পরিবেশ দূষণই নয় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধেরও চরম অবমাননা। এতে করে একদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচলও হয়ে উঠছে বিব্রতকর।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, তাড়াইল কাঁচারি পুকুরটি তালজাংগা জমিদার বাড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। একসময় এই পুকুরকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতো জমিদারদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। পুকুরপাড়ে এখনও দেখা যায় শানবাঁধানো ঘাট, পুরনো স্থাপনার ভগ্নাবশেষ যা অতীত ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, কাঁচারি পুকুরের পাশেই ছিল একটি দাতব্য চিকিৎসালয়, যেখানে জমিদাররা সাধারণ প্রজাদের চিকিৎসাসেবা দিতেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই গৌরব আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দি। বর্ষা মৌসুমে দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ভরে যায় চারপাশ, মশার উপদ্রব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে করে আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।

স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ী শেখ মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, “এই পুকুর একসময় তাড়াইলের গর্ব ছিল। আজ এখানে দাঁড়ানোই যায় না দুর্গন্ধে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।”

সচেতন মহল মনে করেন, যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে কাঁচারি পুকুর আবারও হতে পারে তাড়াইলের সৌন্দর্যের প্রতীক। পুকুর পরিষ্কার, ঘাট সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী জলাশয়কে রক্ষা করা সম্ভব।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে শতবছরের ইতিহাসকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে। নইলে অবহেলার ভারে হারিয়ে যাবে তাড়াইলের আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।