আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

এক লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ

বরগুনার আমতলীতে ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় এক লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলার গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রঞ্জিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারী) বিকেলে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করে এসব দাবি করেন মামলার আসামি আব্দুল মান্নান আকন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান আকনের দাদা নজুমুদ্দিন আকন প্রায় ৭০ বছর আগে একই এলাকার আসমত আলী মৃধা ও বেলায়েত আলী মৃধার কাছ থেকে ৩০১ নম্বর খতিয়ানের ৪৫৭ নম্বর দাগে ২ একর ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল মান্নান আকন ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করা হয়।

গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ওই জমির একটি অংশ নিজেদের বলে দাবি করে সামসুল হক মৃধা ও সাফিয়া বেগম আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আব্দুল মান্নান আকনসহ চারজনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ ও প্রতিরোধ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান মামলাগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রঞ্জিত কুমার সরকারকে নির্দেশ দেন।

আব্দুল মান্নান আকনের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন তদন্ত কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার সরকার তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। তিনি ঘুস দিতে অস্বীকৃতি জানালে তদন্ত কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো রকম সরেজমিন তদন্ত বা পরিদর্শন ছাড়াই সাজানো ও মিথ্যা ঘটনায় তার এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

আব্দুল মান্নান আকন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। আমি তা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রঞ্জিত কুমার সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি বর্তমানে বদলি হয়ে খুলনা পুলিশ লাইনে কর্মরত আছি। তদন্তে আমি সঠিক ও যথাযথ প্রতিবেদনই দিয়েছি।