রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম থানা এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ গেস্ট হাউজ কিংবা আবাসিক হোটেলগুলো রীতিমত পতিতালয়ে পরিণত হয়েছে। হোটেল কেন্দ্রিক এসব পতিতালয় ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে মাদক ব্যবসা। এসব হোটেলগুলো এখন অপরাধিদের অভয়ারণ্যে পরিত হয়েছে।
মিরপুর এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসিক হোটেল নামের পতিতালয়গুলোর মধ্যে বিশেষ আলোচিত মিরপুর ১ নাম্বার গোলচত্বরের সাথে পুলিশ বক্সের গা ঘেষে অবস্থিত মিরপুর সুপার মার্কেটের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত ‘হোটেল গার্ডেন ভিউ’। এই হোটেলের আড়ালে দেহব্যবসায়ীদের গডফাদার হচ্ছেন আজাদ ওরফে কদু আজাদ। তাদের সহযোগীতা করছেন ছোটন ও জগদীশ। এরা শুধু অসহায় নারীদের দিয়ে বাধ্য করে দেহব্যবসা করছে এমন নয়- এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রীদেরকেও ব্লাক মেইল করে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করারও অভিযোগ রয়েছে।
অসাধু ব্যবসায়ীদের দালালচক্র মিরপুরের সড়কে বা রাস্তা ঘাটে খদ্দের সংগ্রহ করার জন্য ওৎ পেতে থাকে। এদের এমনই এক আহ্বানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জামায়াত নেতা বিব্রত হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দলের ফোরামে আলোচনা করবেন’। তিনি আরও বলেন, ‘এরা প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে এমন গর্হিত কাজ করছেন তা কি স্থানীয় প্রশাসন জানে না? অবশ্যই জানেন এবং নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে নির্বঘ্নে এরা অনৈতিক কার্যকলাপ করছেন।’
এ প্রতিবেদক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নারী ব্যবসায়ের গডফদার ‘কদু আজাদ সহযোগী ছোটন ও জগদীশ’ বাণিজ্যের প্রসারের জন্য অনলাইন মাধ্যমকেও বেছে নিয়েছেন। এরা মিরপুরের সকল ফ্লাই ওভার ও মার্কেট এরিয়াতে কার্ড বিতরণ, ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকের মতে স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করছে দেহব্যবসার প্রসারের জন্য।
এ প্রতিবেদক নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে অনৈতিক কার্যকলাপের একটি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। যেখানে দেখা যায় ২০-৩০ জন নারীকে বিভিন্ন রুমে ভাগ ভাগ করে রেখে দিয়েছেন, খদ্দের এনে তাদের দেখিয়ে খদ্দরের পছন্দের মেয়েকে দিয়ে ঘন্টা ও নাইট হিসেবে সার্ভিস দেন তারা। তাছাড়া দেহ ব্যবসাকে ঘিরে মাদক কেনা-বেচাসহ নিয়মিত সেবন হয় হোটেল গার্ডেন ভিউতে। হোটেলটির ভিতরে চলে মাদক ও দেহ ব্যবসার রমরমা আয়োজন।
ছোটন ও জগদীশ মিরপুরে আস্তানা গেরে শুরু করেন নানাবিধ অপরাধমূলক কাজ। প্রথমে মাদক সেবন তারপর মাদক বেচাকেনার পাশাপাশি হোটেল বয়ের চাকরির সুবাদে নারি সাপ্লাইয়ার থেকে মিরপুরের কদু আজাদের সাথে পার্টনারে নারী ব্যবসা শুরু করে। মিরপুরে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা বানিয়েছেন ‘হোটেল গার্ডেন ভিউ’।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এদের প্রতিহত করবে যারা প্রশাসনের লোকজনই এখানে নিয়মিত আসেন-বসেন, আমোদ-ফূর্তি করেন, যাওয়ার সময় পকেট ভাড়ি করে নিয়ে যান ‘মাসোয়ারা’।
হোটেল ম্যানেজার জগদিসের কাছে এ বিষয়ে জানতে কথা বললে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও ভিডিওর স্কিন শর্ট পাঠালে পরে ফোন করে নিউজ না করার জন্য বারবার অনুরোধ করেন ও প্রতিবেদককে অর্থিক প্রলোভনও দেখান।
এ বিষয়ে অন্যতম হোতা কদু আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হ্যা হোটেল গার্ডেন ভিউ আমার, এখানে অবৈধ কিছু হয় না। ভিডিও আছে উল্লেখ করলে তিনি আর কোন উত্তর দেন নি।
দারুস সালাম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন এখন নির্বাচন সেটাকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, এটা পরে দেখবো।
মিরপুর জোনের ডিসির সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেন নি।
হোটেলের ভিডিও লিংক: https://www.facebook.com/share/v/1AXvFmiZpB/