নিজস্ব প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঘুষ দুনীতির মাস্টারমাইন্ড স্বৈরাচারের দোসর পরিচালক বাজেট সাইফুজামানের খুঁটির জোর কোথায়

প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বাজেট সাইফুজামান বিগত লীগ সরকারের সমর্থনপুষ্ট ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি কমিশন ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিচালক সাইফুজামান।

এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও পতিত লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ছিলো। ঘুষ কেলেঙ্কারির কারণে বিগত সরকারের আমলে একাধীক অভিযোগ থাকার শর্তে ও তাঁর অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই সকল অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি।

চাকরি থেকে ঘুষ দুর্নীতি সর্গরাজ্য চালিয়েছে দের্দাচ্ছে। স্বৈরাচারী লীগের দাপট দেখিয়ে  তখনকার সময়ের  ‘ছাত্রলীগ’ বড় বড় নেতাদের  এবং কুমিল্লার বাসিন্দা পরিচয়ে সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের মাধ্যমে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন তিনি। পতিত স্বৈরাচারী লীগ সরকারের পতন হলেও এখন লীগের দোসর পরিচালক সাইফুজামান রয়েগেছেন বহাল তরিয়াতে। অর্থ বরাদ্দের নামে চলছে হরিলুট ও কমিশন বানিজ্য। আগামী মাসে অবসরে যাবেন সেই কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি, কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশেয় তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তোলা সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে। কোটি কোটি টাকার হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি বলে গোপন সুত্রে যানা গেছে।

যানা গেছে, বর্তমান অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লীগের দোসর দের বদলী সহ শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তার বেপারে উল্টো চিত্র। পট পরিবর্তনের পর পরবর্তীতে প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের বিসিএস লাইভষ্টোক  বিএনপিপন্থী ইউনিয়নের বড় বড় নেতাদের সাথে রয়েছে নাকি তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। লীগ পন্থী ঠিকাদার দের কে পুর্নবাসন করতে মারিয়া হয়ে ঘুপচি টেন্ডারের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করেছে বলে একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে চলছে না না গুনজন।

প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের  সূত্র জানায়, অন্তবর্তী সরকারের আমলে  নতুন করে পরিচালক বাজেট পদায়নের পরপরই আগের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাইফুজামান। প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের  কিছু পদ ও শূন্য থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারী বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে ফাঁকা মাঠে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিচালক বাজেট সাইফুজামান ও তার  এই চক্রের বিরুদ্ধে। বৈশম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিদের কে আউট সোসিংএর কাজ বাগীয়ে দিচ্ছেন অসদ উপায়ে। বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ বানিজ্য করছেন সেই সকল টীকাদার দের নিকট থেকে।

এক অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত মাসে প্রায় একশত আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ , বদলি বানিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। আউটসোর্সিং নিয়োগের  তালিকা প্রস্তুতসহ যাবতীয় কার্যক্রম এবং এই কাজের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে রয়েছে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও সাধারণ  ঠিকাদারদের নিকট ‘মুর্তিমান আতঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সুত্রে আরো জানা যায়, বিতর্কিত এই কমকর্তার তার চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও শুরু মাত্র মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরিটি হাতিয়ে নেন তিনি। চাকরি পেয়ে অল্প দিনের মধ্যে পেয়ে যায় আলাউদ্দিনের চেরাগ। দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত নামে সু পরিচিত মিষ্টার ১০% নামে বেশ পরিচিত হয়ে ঠটেন প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরে। সাবেক ডিজির রিয়াজুলের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন সাইফুজামান। নিয়োগ, বদলী ও পদোন্নতি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এখন প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি সহ অঢেল সম্পদের মালিক; যা তার জ্ঞাত আয়-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দাবি করতেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা আছে এমন প্রচারণা চালিয়ে প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরে বিগত সময়ে প্রভাব বিস্তার করতেন; স্যোশাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দিতেন। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উস্কানি প্রদান করতেন পরিচালক সাইফুজ্জামান। অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক বাজেট সাইফুজামান এর মোবাইলে ফোন দিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি তাঁর অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন।