আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

আমতলীতে ২২ পৌর নাগরিকের ভুয়া স্বাক্ষরে অভিযোগ, শাস্তির দাবি

বরগুনার আমতলীতে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২২ জন পৌর নাগরিকের নামে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে অভিযোগ করার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে অভিযোগকারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ২২ জন পৌর নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত ১০টি অভিযোগ গত বছরের ৯ জানুয়ারি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলোতে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বিষয়টি আমলে নিয়ে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব দেন তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে। তিনি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটি অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য ২২ জনকে নোটিশ পাঠায়। তবে নোটিশ পেয়ে অভিযোগকারী শাহ আলম হাওলাদার ও তার ছেলে রাসেল হাওলাদার তদন্ত কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হন। কিন্তু অন্য ২০ জন অভিযোগকারী একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ হাজির হননি এবং সাক্ষ্যও দেননি।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগকারীদের মধ্যে শাহ আলম হাওলাদার ও তার ছেলে রাসেল হাওলাদার ছাড়া অন্যদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা অন্য ২০ জনের স্বাক্ষর জাল করে নাশির উদ্দিনকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে বশির ডিলার, চান মিয়া, জলিল ফকির, জসিম ফকির, নিজাম ফকির ও ছালাম হাওলাদার বলেন, এ অভিযোগ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের স্বাক্ষর জাল করে কে বা কারা অভিযোগ দিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। যারা এমন কাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।

তবে অভিযোগকারী শাহ আলম হাওলাদার ভুয়া স্বাক্ষরে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাশিরের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ দিয়েছে তা আমি জানি না। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাশির উদ্দিন বলেন, আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে যদি আমার অপরাধ প্রমাণিত হয় তবে শাস্তি মাথা পেতে নেব। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে যারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে তাদের শাস্তি দাবি করছি।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, তদন্তে ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির হোসনে বলেন, একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযোগকারীদের মধ্যে দুইজন ছাড়া কেউ সাক্ষ্য দিতে আসেননি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।