আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

তালতলীতে জমি দখলে শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, ভিডিও করতে গেলে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কোটি টাকার জমি দখলকে কেন্দ্র করে শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসময় ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার উপজেলা পরিষদের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে তালতলী উপজেলার বড়বগী মৌজার ৪৭০/৪৭১ নম্বর খতিয়ানের ৫ একর ১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন আব্দুল আজিজ দফাদার। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন তার ছেলে মোঃ রিপন দফাদার।

রিপন দফাদারের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে রফিকুল ইসলাম মুন্সি ওই জমি নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন তিনি। এসময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে, স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে রফিকুল ইসলাম মুন্সি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধরের চেষ্টা করে এবং হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে তালতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম মুন্সি প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে।

জমির মালিক রিপন দফাদার বলেন, “আমার বাবার কেনা জমি আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। হঠাৎ করে সন্ত্রাসী বাহিনী এনে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মুন্সি দাবি করেন, জমিটি তার নিজের এবং তিনি সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন। তবে জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব তিনি দেননি। সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাজে বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, “ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছি।”

তালতলী থানার ওসি মোঃ আসাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।