আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

তালতলীতে কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম: চাল বিক্রি, ভেকু দিয়ে রাস্তা নির্মাণ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর নিয়ম থাকলেও সেখানে ভেকু (এস্কেভেটর) ব্যবহার করে কাজ করার পাশাপাশি বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য (চাল) বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণে সোয়া সাত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চান্দখালী গ্রামের কড়ইতলা ভারানি খালের মোহনার স্লুইসগেট থেকে মোতাহার মৃধার কালভার্ট পর্যন্ত এ রাস্তার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁনকে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, এ ধরনের প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প সভাপতি মো. ইব্রাহিম খাঁন তার ভগ্নিপতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধার সঙ্গে যোগসাজশে শ্রমিক না নিয়োগ করে ভেকু দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করছেন। এতে এলাকার দরিদ্র শ্রমিকরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান তালুকদার, দুলাল তালুকদার, খলিল আকন, মাসুম শরীফ ও আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভালো রাস্তা কেটে নিচের মাটি উপরে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগও নষ্ট করা হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩ দশমিক ৩২৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে সেই টাকায় ভেকু মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন টিপু মৃধা বলেন, ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি কাজ করছি।

প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি প্রথম কিস্তির চাল বিক্রি করেছি এবং সেই টাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করছি। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কমিশন দিয়ে এভাবে কাজ করে আসছি।

পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, কাবিখা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।