মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মোরেলগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, তদন্তের দাবি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলাধীন গুলিশাখালী সিনিয়র ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ১৩ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. চানমিয়া গাজী, মো. ফজলু রহমান খান, মো. আবুবক্কর খলিফা, মো. দেলোয়ার গাজী এবং মাওলানা হারুন অর রশিদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হলেও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন না করে গোপনে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষের অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দিতে প্রায় ১২ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যথাযথভাবে প্রকাশ, বোর্ড গঠন কিংবা স্থানীয়দের অবহিত না করেই গোপনে নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

এছাড়া মাদ্রাসার একটি পুরাতন ভবন (আনুমানিক মূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা), প্রায় ৫ হাজার ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান বক্তারা।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য গভর্নিং বডি গঠন এবং সকলের অংশগ্রহণে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল বারী বলেন, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে আমি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।