পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খাস জমি ও নির্ধারিত সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আদাবারিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার এলাকায় এই অবৈধ নির্মাণকাজ প্রকাশ্যেই চললেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
জানা যায়, হাজিরহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে দাগ নং ২৫০৭-এর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, যা মূলত সরকারি রাস্তার জন্য নির্ধারিত, সেটি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন মোঃ খলিল হাওলাদার (পিতা: মৃত তাজেম হাওলাদার)। প্রায় ১৮ মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জমিতে ইতোমধ্যে বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশন সহ প্রথম চলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইও সম্পন্ন করেছেন তিনি; বর্তমানে চলছে দেয়াল গাঁথনি ও পরবর্তী ধাপের নির্মাণ কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ সহ কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি খাস জমি ব্যবহারের জন্য কোনো ডিসিআর (DCR) থাকার তথ্যও মেলেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, খলিল হাওলাদার ভবনটি ব্যবসা ও বসবাসের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করছেন। আশেপাশে থাকা একাধিক প্লটের সঙ্গে এই খাস খতিয়ান সংযুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের জমির সঙ্গে সরকারি জমি আটকে রেখে দখলের চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় আকারের দখলবাজির ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর আগে এই জমিটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অংশ হিসেবে বিবেচিত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রভাবশালীরা রাস্তার জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। এতে জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, খাস জমিতে কীভাবে বহুতল ভবন হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কোনো নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সরকারি জমি একসময় পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একাধিকবার ওই স্থানে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সরকারি রাস্তা ও খাস জমিতে ভবন নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রায় দুই মাস আগে আমি নিজেও গিয়ে কাজ বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু তিনি তা মানছেন না। তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সালেহ আহমেদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল ও খাস জমিতে নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি নির্মাণ কাজ চালানো হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা সত্ত্বেও নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে কার প্রভাবের জোরে চলছে এই দখলদারি? দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।