বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া এলাকায় দাগ নং-৪১৯১-এর একটি জমিকে কেন্দ্র করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে আব্দুল খালেক হাওলাদার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক হাওলাদার অভিযোগ করেন, তিনি তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে জয়নাল আবেদীন লোকজন নিয়ে এসে কাজে বাধা দেন। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে রাতের আঁধারে নির্মাণাধীন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, “আমি আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে কাজ করতে গেলে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, দাগ নং-৪১৯১-এর জমির মালিকানার পক্ষে তার কাছে বৈধ সকল কাগজপত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ক্রয় দলিল, নামজারি সংক্রান্ত নথি, খতিয়ান/রেকর্ডপত্র, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদসহ আদালতে দাখিলকৃত প্রয়োজনীয় দলিলাদি। এসব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ পক্ষ বারবার বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। দেওয়ানি বাটোয়ারা মামলা (নং-৪৯/২৩) চলমান থাকায় আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি প্রায় ৩০ বছর আগে তার পিতা ফকরুল ইসলাম ক্রয় করেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তার দাবি, প্রতিপক্ষ পক্ষ হঠাৎ করে জমিতে কাজ শুরু করলে তিনি বাধা দেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সন্ন্যাসী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবজাল হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, চালিতাবুনিয়া মৌজার এস.এ. ১৭৪২ ও এস.এ. ৮৯৩ খতিয়ানভুক্ত জমিসহ দাগ নং-৪১৯১-এর একাধিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও দখল বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ করে আসছেন।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আব্দুল আউয়াল হাওলাদারের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং চলমান বিরোধের স্থায়ী সমাধান শুধুমাত্র আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।