নিজস্ব প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর রহ.এর ১৮তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল: রাজধানীর মালিবাগস্থ খানকায়ে মুসলিহিনের উদ্যোগে হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর রহমাতুল্লাহ আলাইহির ১৮তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমিরুল মুসলিহিন হযরত মাওলানা খলিলুর রহমান নেছারাবাদি। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বক্তারা হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.)-এর জীবন, কর্ম ও ইসলামের খেদমতে তাঁর অসামান্য অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে নৈতিকতা, মানবতা ও দ্বীনের সঠিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নেছারাবাদী হুজুর বলেন হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.) ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচার, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনা ও কর্মধারা ছিল কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক, যা সাধারণ মানুষের মাঝে সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি শুধু একজন আলেমই নন, বরং একজন দূরদর্শী সমাজসংস্কারক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দ্বীনের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সাধনা ও ইখলাসের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

“ইত্তেহাদ মাআল ইখতেলাফ”—অর্থাৎ মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ঐক্য বজায় রাখা—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে তিনি বাংলাদেশে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মতের ভিন্নতা ইসলামের সৌন্দর্য নষ্ট করে না; বরং পারস্পরিক সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে উম্মাহর শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিভাজন ও মতবিরোধের সময়ে তাঁর শিক্ষা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়—ঐক্যই শক্তি, আর বিভক্তি দুর্বলতা ডেকে আনে। তাই তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

হযরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমরা একটি সুসংহত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি।