বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৫ শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে আটজন বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি সাতজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। বুধবার (বিকেল ৩টার দিকে) এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামের মো. নূর জামাল (৫৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর থেকে জেলা জুড়ে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে অস্বাভাবিক হারে বজ্রপাত হতে থাকে। এ সময় নূর জামাল বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের পাশে বজ্রপাত হলে এর বিকট শব্দে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের প্রথমে ফুলঝুরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আটজনকে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা হলেন—ষষ্ঠ শ্রেণির কারিমা, জান্নাতি, রিয়া মনি, মরিয়ম, সামিরা, রিয়ামনি এবং সপ্তম শ্রেণির ইয়াসমিন ও আমেনা আক্তার।
ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. বশির হোসেন বলেন, “ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ভবনের পাশে তালগাছে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা আহত হয়।”
ঘটনার পর বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহর নির্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাকুর বলেন, “সংসদ সদস্যের নির্দেশে আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নূর জামাল নিহত হন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাজলিমা আক্তার বলেন, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্যও সহায়তা প্রদান করা হবে।