ভ্রাম্যমাণ রিপোর্টার নান্দাইল : , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

নান্দাইলে রাজগাতী ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী চিকনী স্লুইসগেট যেন মরনফাঁদ : তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি !

সম্প্রতি ভারি বষর্নে নান্দাইল উপজেলা রাজগাতী ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী চিকনী স্লুইসগেট থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার দরুন পানি প্রবাহিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতার কারণে শত শত একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায় ১৯৯০ খ্রী: এতদ অঞ্চলের অধিবাসীদের ফসল রক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইসগেটটি নির্মাণ করে। কিন্তু খাল খনন না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে পানি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

সম্প্রতি টানা কয়েকদিনের ভারি বষর্নে উজান থেকে নেমে আসা পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে নান্দাইল উপজেলা সীমান্তবর্তী রাজগাতী ইউনিয়ন বড়াইল খলাপাড়া উলুহাটি বনাটি পাইকারগাতী দরিল্লা সহ এতদ অঞ্চলের অধিবাসীদের বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল।

কিন্তু উক্ত স্লুইসগেট নির্মিত ৬ ভেন্টের হওয়ায় নিস্কাষনের কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ ঠিকমতো প্রবাহিত না পারায় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার একর জমির ফসল বিস্তীর্ণ জলরাশিতে তলিয়ে যায়। ফলে ফসল হারিয়ে চাষি সমাজ দিশেহারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটটি কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষার্থে নির্মিত হলেও এটি পানি নিস্কাষনের পথে বড়ো বাধাঁ হয়ে দাড়িয়েছে। ভারি বষর্নে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে জলাবদ্ধতা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। পার্শ্ববর্তী রাউতি ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য মাহমুদুর রহমান খান রুবেল জানান,স্লুইসগেটটি আশীর্বাদ হয়ে জন্ম নিলেও বর্তমানে রাজগাতী ও রাউতি ইউনিয়ন অধিবাসীদের জন্য মরনফাদে পরিনত হয়েছে। এর দরজা গুলো কচুরিপানা জমে গিয়ে অনেক দরজা বন্ধ হয়ে থাকে।

ফলে পানি দ্রুত না নামতে পেরে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করছে। এতে একধরনের কৃত্রিম দুর্যোগে পরিনত হয়েছে। একদিকে পানি পানি প্রবাহিত হতে না পেরে পাকা ধানের উপর আবরন পড়ে চাষিদের সোনালী স্বপ্ন গুলো ফিকে হয়ে উঠছে। এতে কয়েকটি গ্রামের চাষিদের চোখেমুখে সব হারিয়ে বিষাদে হাবুডুবু খাচ্ছে। খলাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত হেলথ ইন্সপেক্টর আলহাজ্ব মো ময়েজ উদ্দিন মিয়া জানান, রাজগাতী ইউনিয়ন উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বঞ্চিত। যে স্লুইসগেট জনগণের আশীর্বাদ হিসাবে নির্মিত হয়েছিল আজ তা অভিশাপে পরিনত হয়েছে।

তিনি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাতে এটা ভেঙে এলাকাবাসীকে মুক্ত করেন এবং কৃষক সমাজ প্রাণে বেঁচে যায়। স্থানীয় কৃষক মো: আনিছুর রহমান লিটন জানান, আমাদের পরিশ্রম ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের পুর্নবাসনের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার নাঈমা সুলতানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পুর্নবাসনের জন্য তালিকা প্রনয়ণ হচ্ছে।

এদিকে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ক্ষতি গ্রস্ত চাষিদের দাবি,যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যেন সবাই প্রনোদনার আওতায় আসে এই জন্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।