পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে ছাত্র-শিক্ষক পরিষদ।
সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে তারা এ কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হঠাৎ একদল বহিরাগত এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, প্রভোস্ট মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দিন, ড. শহীদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল এবং ড. রিপন চন্দ্র পাল।
হামলার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা হামলার বিচার এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে আমাদের আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এক আহত শিক্ষক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষকদের ওপর এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।”
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহত শিক্ষকরা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম সাইফুল ইসলাম, অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক কৃষিবিদ ডা. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, টিএসসি পরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দীক, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে চলমান অস্থিরতায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত সংকট সমাধান করে ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।