সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস, পরে মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের রাতের ভোটের এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত ইএম ডিভিশন-৭-এর আওতাধীন ইএম উপ-বিভাগ-১৩-এর (সংসদ ভবনের দায়িত্বে) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ এখনো কিভাবে বহাল রয়েছেন?
গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী কী করছেন? তারা কেন এইসব আওয়ামী দুর্বৃত্তদের সংসদ ভবনের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত এলাকার দায়িত্বে রেখেছেন?
জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে এই আওয়ামী দুর্বৃত্ত গণপূর্ত ইএম ডিভিশন-৭-এর আওতাধীন ইএম উপ-বিভাগ-১৩-এর সংসদ ভবন এলাকায় উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক) পদে যোগদান করেন। তখন থেকেই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের সর্বেসর্বা দায়িত্ব পালন করছেন। তখন তার গডফাদার সাইফুজ্জামান শিখর পাওয়ারফুল এমপি থাকায় তার নির্দেশে সংশ্লিষ্ট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পাশ কাটিয়ে কোটি কোটি টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারে হাতিয়ে নিয়েছেন এই আসিফ রহমান নাহিদ। সেই সব টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট কিনেছেন। দেশের বাড়ি মাগুরায় প্রচুর সম্পদ ক্রয় করেছেন। নতুন গাড়িও কিনেছেন।
প্রশ্ন হলো— তিনি কত টাকা বেতন পান? আর স্বৈরাচারের দোসর হয়েও কিভাবে আজ ৩ বছর সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় বহাল রয়েছেন?
সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম বা ‘হেডফোন কেলেঙ্কারির’ নায়ক তিনি
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম বা ‘হেডফোন কেলেঙ্কারি’ ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ।
গণপূর্ত ইএম ডিভিশন-৭-এর আওতাধীন ইএম উপ-বিভাগ-১৩-এর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এক ধরনের ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনেও শুরু থেকেই সাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা একে অপরের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শুনতে না পারায় অধিবেশন পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলেও মাইকে ত্রুটি দেখা দিলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিষয়টি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে বদলি করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাঠপর্যায়ের কাজের মূল তদারকি ও কারিগরি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও আসিফ রহমান নাহিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ছত্রছায়ায় আসিফ রহমান নাহিদ গণপূর্ত বিভাগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং বর্তমান প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আড়াল করে রাখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়মকারীরা কীভাবে এখনো বহাল থাকেন, তা উদ্বেগজনক। এতে জাতীয় নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।”
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন— কোন সেই অদৃশ্য শক্তি, যার কারণে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এ ঘটনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের সর্বোচ্চ আইনসভার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সূত্র: DSB