জেলার ঐতিহ্যবাহী মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে । ফলে ইউনিয়ন পরিষদের স্টাফ ও প্রতিদিন শত শত আগত সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতংক। যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
সরজমিন ঘুরে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম মুলত সীডষ্টোর ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।যে ভবনে একসময় কৃষি বিভাগের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বীজ সহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হত আজ সেই ভবন হয়ে উঠছে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমের আস্তানা।
সাবেক চেয়ারম্যান মো: মফিজ উদ্দিন ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটি সম্পুর্ন অকেজো হয়ে পড়লে ১৯৯৩ খ্রি: থেকে উক্ত ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু উক্ত ভবনটিতে উঠার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
ভবনটিতে বিরাজ করছে ভগ্নাদশা পরিবেশ। উঠে গেছে বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা,ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার রুমের চারিদিক জুড়ে রয়েছে বড় বড় ফাটল এবং মাঝে মাঝে পলেস্তারার বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। যে স্থানটিতে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও উদ্যেক্তা অফিস হিসাবে ব্যবহার করছে। তা অত্যন্ত নাজুক।
প্রায়শই ছাদের উপর থেকে ঝুরি ঝুরি ধুলোবালি পড়তে থাকে। এই কক্ষটিতে রয়েছে মুল্যবান কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস। তারা সেবা কার্যক্রম পরিচালিত করতে গিয়ে চরম আতংকের মধ্যে অফিস টাইম কাটে। চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যে রুমে বসেন উক্ত দুটো রুমে বিরাজ করছে নাজুক পরিবেশ।
খসে খসে পড়ছে উপর থেকে পলেস্তারা। নতুন ইউনিয়ন পরিষদে কমপ্লেক্স নির্মানে জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ কিশোরগঞ্জ তাড়াইল রাস্তার নীলবাজারের উত্তর পার্শে পঁচিশ শতক ভুমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে সাফ কাওলা করে দেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি টিম সরজমিন পরিদর্শন করে গেছেন এবং স্থানটি সিলেকশন করেন। ভবনটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস গুলো অনত্র রাখতে হয়। ভিজিএফ ভিজিডি মালামাল সংরক্ষনের জন্য ভবনের সাথে এটাস্ট করে একটি রুম করা হয় যেখানে মাল রাখা হয়। আর মালামাল বেশি হলে আরেকটি পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়।
সেখান থেকে বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। বর্তমানে আবহাওয়া প্রতিকুল থাকায় প্রায়শই ঘটছে ভূমিকম্প সহ নানা দুর্ঘটনা। যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রানহানীর মতো দুর্ঘটনা। অপর দিকে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে।
এনালগ যুগের স্যানিটেশন ব্যবস্থা হওয়ায় অফিস চলাকালীন সময়ে সেবা গ্রহীতা ও অফিস স্টাফ সহ নাক মুখ ঢেকে কাজ করতে হয়। যার দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুমের পাশেই অবস্থি বাথ রুম। ভবনের চারিদিকে বিরাজ করছে জীর্ন শীর্ণ পরিবেশ। ফলে যতক্ষণ অফিসে অবস্থান করেন ততক্ষণে দুর্গন্ধ পোহাতে হয়। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দাস বলেন, আমি গত ১৯ মার্চ এই ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেছি। ভবনের অবস্থা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।
এই নাজুক পরিবেশের মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া প্রতিকুল হলেই চরম আতংকের মধ্যে অফিস করতে হয়। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সিনিয়র শিক্ষক মো: ইব্রাহিম খলিল জানান এরকম অকেজো ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। যা বর্তমান সমাজে বিরল। দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স নির্মাণ করার উর্ধতন কর্তপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই প্রসংগে ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েক দফা টিম এসে সরজমিন পরিদর্শন করেছেন। দেশের ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীলতার লক্ষ্য ডিজিটালের পাশাপাশি নান্দনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বিভিন্ন স্থানে। আশাকরি চলতি অর্থ বছরে মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স নির্মাণ করে সেবা কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনয়ন করবে এটার আশাবাদী।
উল্লেখ্য ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য একটা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্য অবদি প্রায় ষাটের অধিক সেবা কার্যক্রম দিয়ে থাকে।