ঢাকা ভৈরব টু ময়মনসিংহ রেললাইন সংযোগটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ। বৃটিশ আমলে স্থাপিত রাজধানী থেকে ভৈরব ভায়া ময়মনসিংহ যাত্রী সাধারনের যোগাযোগ কল্পে রেললাইন স্থাপন করে বৃটিশ সরকার। ময়মনসিংহ জেলার সাথে যুক্ত ছিল টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এর সকল কার্যক্রম ময়মনসিংহ থেকে পরিচালিত হত।
আর জনগুরুত্ব দিক দিয়ে ময়মনসিংহ জেলা ছিল তখন সর্বাগ্রে। এতদ অঞ্চলের বিচারকার্যের জন্য তখন জনসাধারণকে ময়মনসিংহে যেতে হত। এই লক্ষ্য ভৈরব টু ময়মনসিংহ কাচারি গাড়ি নামে ট্রেন চালু করে ততকালীন সরকার। পাশাপাশি ঈশাখা, এগারো সিন্ধু সহ বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়মিত পরিচালিত হত। এতে জনসাধারণ স্বপ্ল খরচে ময়মনসিংহ যাতায়াত করতে পারতো।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আজ দেশের প্রাচীনতম যোগাযোগ ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ অঞ্চলে রেল যোগাযোগ প্রভুত উন্নতি সাধিত হলেও ভৈরব গৌরীপুর রেল জংশনের মুখ থুবড়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে লোকসানি খাত দেখিয়ে বন্ধ হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী কাচারি , ঈশাখা ও এগারো সিন্ধুর ট্রেনের কার্যক্রম। প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ছে, সুখী নীলগঞ্জ, মুশুলী, নান্দাইল রোড, বোকাই নগর সহ অসংখ্য স্টেশন। যে স্টেশন গুলোতে এক সময় যাত্রী ও মালামাল আনা-নেয়া ক্ষেত্রে মুখরিত ছিল, সরকার পেত রাজস্ব, আজ সে গুলো স্টেশন গুলোতে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। এ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল শাখা সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন মানববন্ধন সহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত।এতেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।
ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম রেল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসার পর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটার লক্ষ্য নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পর্যটন এলাকা হিসাবে খ্যাত দুর্গাপুরে রেল সংযোগ দেয়ার লক্ষ্য রেলমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার সহ সংশ্লিষ্ট দফতর সরজমিন পরিদর্শন করেন। যা নি:সন্দেহে অত্র অঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। অপর পক্ষে দীর্ঘ দিনের পুরাতন রেল জংশন গৌরীপুর এর ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
নতুন সংযোগের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ভৈরব ভায়া ময়মনসিংহ লাইনের বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অসংখ্য স্টেশন। সেই গুলো হারিয়ে স্বকীয়তা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবী। কেননা বর্তমান সময়ে দূর পাল্লা বাস ভ্রমণে প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। অসংখ্য লোকের অঙ্গহানি হচ্ছে। প্রান হারাচ্ছে অসংখ্য লোকের। ব্যয় হচ্ছে অর্থের। এই ব্যস্ততম সময়ে নিরাপত্তার জন্য রেল যোগাযোগের বিকল্প নেই।
মান্যবর রেল মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার ও নান্দাইলের কৃতি সন্তান প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর প্রতি এলাকাবাসীর বিশেষ নিবেদন, হারিয়ে যাওয়া রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনুরুদ্ধারের আপনার হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। আপনার জন্মভুমি নান্দাইলের মাটিতে নান্দাইল রোড ও মুশুলী রেল স্টেশন।এদের প্রদীপ নিভু নিভু অবস্থা। আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফিরে পেতে ভৈরব টু ময়মনসিংহের চিরচেনা ঐতিহ্য। আপনার দ্রুত সময়োপযোগী পদক্ষেপ ফিরে পেতে আবারও সেই যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন মাত্রা।
এই বিষয় রাজগাতী ইউনিয়ন খলাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত হেলথ ইন্সপেক্টর আলহাজ্ব মো ময়েজ উদ্দিন মিয়া জানান, ময়মনসিংহ ভৈরব ভায়া ঢাকা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। এই রেললাইন বৃটিশ সরকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে স্থাপন করে ছিলেন। যেখানে দিন দিন এর উন্নতি সাধন হয় উক্ত রুটে চলছে বিপরীত চিন্তা। নান্দাইলের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের কৃতি সন্তান ইয়াসের খান চৌধুরী মন্ত্রী হিসাবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন যা অত্যন্ত গর্বের বিষয় পাশাপাশি আপনার হাত ধরেই এই লাইনে প্রভুত উন্নতি সাধিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন উক্ত রুটের জনগণ।