নাজমুল হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

শিবগঞ্জে কয়েক হাজার বিঘা জমির খাজনা চালুর উদ্যোগ, মাঠ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন কবলিত উজিরপুর ইউনিয়নের উজিরপুর ও রাধাকান্তপুর মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমির খাজনা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা এসব জমির খাজনা চালুর উদ্যোগ নিতে মাঠ পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় জমির শতাধিক মালিক উপস্থিত ছিলেন।

ভূমির মালিক আব্দুল আওয়াল, সাদিকুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, নাজির হোসেন, আব্দুল মালেক ও আলী হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে উজিরপুর ও রাধাকান্তপুর মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমি নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায়। তবে ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে সেই জমি পুনরায় জেগে ওঠে এবং মালিকরা নিজ নিজ জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন।

বর্তমানে এসব জমিতে আম, বরই, কলা, ধান ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। কিন্তু জমির খাজনা দিতে গেলে তারা জানতে পারেন, জমিগুলো ‘সিকস্তি’ পর্যায়ে থাকায় খাজনা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দপ্তর ও আদালতে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে তারা সংসদ সদস্যের শরণাপন্ন হয়েছেন। ইতোমধ্যে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মকর্তারা এলেও খাজনা চালুর আগে জরিপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ভূমির মালিকরা।

ভূমি মালিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায় বন্ধ থাকায় যেমন তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি রাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত উজিরপুর ও রাধাকান্তপুর মৌজার সব জমির খাজনা চালুর জোর দাবি জানান।

মাঠ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী বলেন, “এই দুটি মৌজার কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত মালিক দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। নিজেদের জমির খাজনা দিতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমির মালিকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।