মো: মাইন, বগুড়া (আদামদিঘি) প্রতিনিধি :  , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

সান্তাহার পৌরসভায় জনবল সংকট, চরম ভোগান্তিতে পৌর জনগণ

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাসকারী ১০.৫৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রয়োজনীয় কর্মচারীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৫৫ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২১ জন।

ফলে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ড্রেন পরিষ্কার, সড়কবাতি মেরামতসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হয় প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল বাবদ মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। সীমিত আয়ের বিপরীতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে পৌরসভায় একটি সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তি করতেও অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ দিন লেগে যায়। কেউ সড়কবাতি মেরামতের আবেদন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। ড্রেন পরিষ্কারসহ অন্যান্য নাগরিক সেবাও বিলম্বিত হচ্ছে। পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় এবং প্রশাসক দূরে অবস্থান করায় জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে পৌরসভার একমাত্র প্রকৌশলী আবু রায়হানকে একসঙ্গে তিনটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান মিঠু বলেন, সান্তাহার একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না।

জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে জনগণ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সান্তাহার পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তর করা হোক।তিনি আরও বলেন, পৌরসভার রাজস্ব বৃদ্ধি করতে সরকারি উদ্যোগে হাট-বাজার, মৎস্য আড়ত, কোরবানির পশুর হাট এবং মার্কেট সম্প্রসারণ ও অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে পৌরসভার আয় বাড়বে এবং নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে।

পৌরসভার প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, সান্তাহার পৌরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত জনবল নিয়োগ, রাজস্ব বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

পৌরসভায় লোকবল বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো গেলে নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় এবং প্রশাসক দূরে অবস্থান করায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নাগরিকদের সেবা দিতে। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে সেবার মান দ্রুত উন্নত করা সম্ভব হবে।