বিশেষ প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ , আজকের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

৯ কেন্দ্র ও কক্সবাজারের বনভূমির পর ১৮শ কোটির ফাইভস্টার

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য দেশে ইতমধ্যেই ৯টি কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশির ভাগেরই নেই যথাযথ ব্যবহার। এমনকি কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় ৭০০ একর রক্ষিত বনভূমিও বরাদ্দ নেওয়া আছে একই উদ্দেশে। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে এবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন বিসিএস প্রশাসন একাডেমি গড়ার মেগা আয়োজনে নেমেছে প্রশাসন ক্যাডার। ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি যেন কোনো সাধারণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়, বরং ফাইভ-স্টার মানের এক বিলাসী রাজপ্রাসাদ। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা সুইমিংপুল, ভবনে ৪৫টি লিফট, জিম-ফিটনেস সেন্টার, এমনকি কেন্দ্রীয় মসজিদে চলন্ত সিঁড়ির মতো চোখকপালে তোলার মতো সব বিলাসবহুল সুবিধা রাখা হয়েছে মাত্র ৫০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ধামাচাপা পড়া ‘বঙ্গবন্ধু বিসিএস প্রশাসন একাডেমি’ প্রকল্পটিকে কেবল নাম বদলে ‘বর্ধিত ক্যাম্পাস’ হিসেবে ফের ঘষামাজা করে পাস করানোর এই তোড়জোড় জনগণের করের টাকার চরম অপচয় ও আমলাতন্ত্রের মেগা বিলাসিতার এক নজিরবিহীন দলিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বর্তমানে দেশজুড়ে ৯টি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান সাভারের বিপিএটিসি, যা ১৯৮৪ সালে ৫৪ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে নবীন থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি এর সক্ষমতা ও নতুন ভবন আরও বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় রয়েছে চারটি আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্র। রাজধানীর শাহবাগে ২ দশমিক ২৩ একর জমির ওপর রয়েছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন একাডেমি। এর বাইরে ঢাকার নীলক্ষেতে জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) এবং মিরপুরের রূপনগরে ২৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি’ (নাডা) চালুর অপেক্ষায় দিন গুনছে। ইস্কাটনের ‘বিয়াম ফাউন্ডেশন’-এও কর্মকর্তাদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যমান এই ৯টি কেন্দ্রের সিংহভাগেরই যেখানে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সেখানে কেবল প্রশাসন ক্যাডারের জন্য নতুন মেগা প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ প্রশাসনের ভেতরেই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে ২০২১ সালে কক্সবাজারের ঝিলংজা মৌজায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ করার জন্য ৭০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশবিদদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও এটি ছিল একটি ‘রক্ষিত বন এলাকা’। বনের জমি দখল ও কক্সবাজারে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে তখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেই দুই ধরনের মত তৈরি হয়েছিল। তীব্র সমালোচনার মুখে সেই প্রকল্প থমকে গেলেও বনভূমির ওই ৭০০ একর জমির বরাদ্দ এখনো বাতিল হয়নি। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রক্ষিত বনভূমিতে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা বা স্থাপনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও জমিটি এখনো প্রশাসন একাডেমির নামেই রয়ে গেছে।

বিদ্যমান ৯টি কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজারের বিশাল জমি অব্যবহৃত ফেলে রেখে আবারও ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জে ১,৮৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার এই বিপুল ব্যয়কে করের টাকার অপচয় ও আমলাতান্ত্রিক জেদ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করেন, কেরানীগঞ্জে যদি নতুন একাডেমি করতেই হয়, তবে কক্সবাজারের রক্ষিত বনের ওই জমিটি অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান পরিকল্পনা বলছে, কক্সবাজারের প্রকল্প বাদ না দিয়েই সমান্তরালভাবে কেরানীগঞ্জের এই ফাইভ-স্টার বিলাসবহুল ‘প্রাসাদ’ নির্মাণের তোড়জোড় চালানো হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জের মুগারচরে ৪৫.৮৮ একর জমিতে প্রস্তাবিত এই নতুন বিসিএস প্রশাসন একাডেমি বর্ধিত ক্যাম্পাসের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের আড়ালে এখানে তৈরি হচ্ছে এক চরম বিলাসবহুল কমপ্লেক্স। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১,৮৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পে একসঙ্গে মাত্র ৫০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রতিজন কর্মকর্তার পেছনে সরকারের পরোক্ষ খরচ দাঁড়াবে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা!

প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, এই ক্যাম্পাসের ভেতরে যে ধরনের খরচের খতিয়ান ধরা হয়েছে, তা যেকোনো ফাইভ-স্টার রিসোর্টকেও হার মানায়: মসজিদে চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট: পুরো ক্যাম্পাসের ভবনে মোট ৪৫টি লিফটের পাশাপাশি ৩ তলা কেন্দ্রীয় মসজিদে থাকবে চলন্ত সিঁড়ি, যার জন্য সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

আলাদা সুইমিংপুল ও স্পোর্টস জোন: নারী ও পুরুষ কর্মকর্তাদের জন্য বিপুল ব্যয়ে ৩,৩৫৬.১ বর্গমিটারের দুটি আলাদা সুইমিংপুল তৈরি করা হবে, যার খরচ ২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া জিমনেসিয়াম, ইনডোর বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, যোগা ও ফিটনেস সেন্টারের ভবন ও সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ ১০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দুটি লন টেনিস কোর্ট এবং ফুটবল মাঠের জন্য রাখা হয়েছে আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা।

বিলাসবহুল আবাসন ও ইন্টেরিয়র: মহিলা ও পুরুষ কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলার দুটি আলাদা ডরমিটরি ভবন নির্মাণে খরচ হবে ১৭৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ডাইনিং ও কনভেনশন সেন্টারের জন্য ৪৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ভিআইপি রেস্ট হাউজের জন্য ১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কার্টেন ওয়াল, টেম্পার্ড গ্লাস, ফলস সিলিং ও কিচেন কেবিনেটের মতো জাঁকজমকপূর্ণ অন্দরসজ্জায় ব্যয় হবে ৬২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

কাটলারি ও আসবাবপত্রের মেলা: কর্মকর্তাদের খাওয়ার জন্য কেবল ক্রোকারিজ, কাটলারিজ, সার্ভিং ট্রলি এবং ডিশ ওয়াশারের পেছনেই ওড়ানো হবে ৫ কোটি টাকা! আর পুরো কমপ্লেক্সের আসবাবপত্রের বাজেট ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা।

এসি, জেনারেটর ও গাড়ি বিলাস: তীব্র গরম থেকে বাঁচতে পুরো একাডেমিতে বসানো হবে ২,৫৫৫টি স্প্লিট টাইপ এয়ার কুলার (এসি), যার ব্যয় ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নির্বিঘ্ন বিদ্যুতের জন্য ১২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় কেনা হবে ১৮টি ইমারজেন্সি জেনারেটর। কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য ১৪টি গাড়ি কেনা হবে ১৪.৫ কোটি টাকায় এবং অতিরিক্ত ৫টি গাড়ি ভাড়ার জন্য বরাদ্দ ৩ কোটি টাকা।

নদী রক্ষা ও জলযান: চরাঞ্চলের কাজের অজুহাতে প্রশিক্ষণার্থীদের নদী ভ্রমণের জন্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কেনা হবে বিলাসবহুল জলযান। নদীর তীরে তৈরি হবে দুটি রিভারভিউ ডেক ও জেটি। নদীর বাঁধ রক্ষায় প্রতি মিটারে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, যা সাধারণ হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

অন্যান্য বিপুল খরচ: প্রকল্প এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতে পার্ক ও ফাউন্টেনের (ঝরনা) জন্য রাখা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। শুধু গাছ লাগানোর পেছনেই খরচ হবে আড়াই কোটি টাকা। এ ছাড়া মাটি পরীক্ষা, পরামর্শক ব্যয় ও কর্মকর্তাদের সম্মানির পেছনেই চলে যাবে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

জমি ও মাটি পরীক্ষা: ক্ষতিপূরণসহ ৪৫.৮৮ একর জমি অধিগ্রহণের পেছনেই ব্যয় হবে ১৬১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাটি পরীক্ষা ও ডিজিটাল সার্ভেতে ১ কোটি ৩২ লাখ এবং মাননিশ্চিতকরণ কাঁচামাল নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় খরচ হবে ৫ কোটি টাকা।

একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন: ৪ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ৭১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ৬ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবনের খরচ আলাদা। ৪ তলা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ব্যয় ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বিশাল অডিটোরিয়াম ও ডাইনিং: ৭৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২ তলা অডিটোরিয়াম নির্মাণে ৫৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং ৩ তলা কেন্দ্রীয় ডাইনিং ও কনভেনশন সেন্টারে খরচ হবে ৪৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসন: ১৪ তলার নারী-পুরুষ ডরমিটরির (১৭৩ কোটি টাকা) পাশাপাশি এমডিএস ও পরিচালকদের আবাসিক ভবনের জন্য ২২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং উপ-পরিচালকদের দুটি ১২ তলা বাসভবনের জন্য ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া কর্মচারীদের ৯ তলা ফ্ল্যাট ও ডরমিটরির জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। ২ তলা পুলিশ ব্যারাকের ব্যয় ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

মেডিক্যাল ও রিক্রিয়েশন: একটি ৩ তলা মেডিক্যাল সেন্টার ও ক্লিনিক নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা এবং ২ তলা রিক্রিয়েশন সেন্টারে ১২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা খরচ হবে।

অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা ও প্রাচীর: ক্যাম্পাসের ভেতরে আরসিসি রাস্তার জন্য ৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ফুটপাথের জন্য রাখা হয়েছে ৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং সারফেস কার পার্কিংয়ে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

স্টোর, ব্যাংক ও রিসার্চ সেন্টার: ব্যাংক, কনভেনিয়েন্ট স্টোর ও সেলুন-বিউটি শপের জন্য ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আনুষঙ্গিক ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে ২ তলা ওয়ানহাউস ও মেরামত শাখায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং রিসার্চ সেন্টার ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ভবনে ব্যয় হবে ১০ কোটি টাকা।

স্পোর্টস জোন ও পিটি গ্রাউন্ড: ইনডোর গেমস ও ফিটনেস সেন্টারের বিশাল ভবনের (১০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা) বাইরে শুধু জিমনেসিয়ামের যন্ত্রপাতির জন্য ৬৬ লাখ টাকা এবং পিটি গ্রাউন্ডের জন্য ৩.৫ কোটি টাকা খরচ করা হবে। ২টি টেনিস কোর্টে প্রায় ২ কোটি এবং ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন মাঠে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

বিনোদন ও সৌন্দর্যবর্ধন: স্বাধীনতা মনুমেন্ট ও শহীদ মিনারে ২.৫ কোটি টাকা, এম্পিথিয়েটার আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাসেজে ২ কোটি টাকা এবং স্টাফ ক্যাফেটেরিয়ায় ১.৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ৩টি গার্ডরুমের খরচ ৩৫ লাখ টাকা এবং ১০টি নিরাপত্তা চৌকিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১,৩৭৮,১৬৯ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়নের পেছনেই ওড়ানো হবে ৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা!

পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ভূগর্ভস্থ জলাধার (৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা), গভীর নলকূপ ও পাইপ নেটওয়ার্কিং (৭.৫ কোটি টাকা), ৪টি সুয়ারেজ ও ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট (১১ কোটি টাকা), পানি পরিশোধনাগার (২ কোটি টাকা) এবং ড্রেন পিটের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা খরচ হবে। সাব স্টেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভবন ও ১১টি ইকুইপমেন্টের মোট ব্যয় রাখা হয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।

নিরাপত্তা ও গ্যাজেট বিলাস: ৪৭২টি সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৯২৭টি কম্পাউন্ড সিকিউরিটি লাইটে প্রায় ২ কোটি টাকা, ক্লাসরুম-ল্যাবের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং পিএস সিস্টেমে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে। দুই হলের লাইটিং ও সাউন্ড সিস্টেমে খরচ হবে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

অফিস ও চিকিৎসা সরঞ্জাম: আসবাবপত্রের (৫০ কোটি টাকা) বাইরে কর্মকর্তাদের কম্পিউটার, ইউপিএস ও প্রিন্টারের জন্য ৫ কোটি টাকা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উপকরণে ৫ কোটি টাকা এবং মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসা যন্ত্রপাতির জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্যাস লাইনের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮.৫ কোটি টাকা।

পরামর্শক ও কর্মকর্তাদের বেতন: প্রকল্পটির জন্য পরামর্শক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। প্রকল্প চলাকালীন কমিটির সদস্যদের সম্মানি ২০ লাখ টাকা, আনসার সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যয় ১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা জনগণের পকেট থেকে দেওয়া হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘বঙ্গবন্ধু বিসিএস প্রশাসন একাডেমি’ নামে এই বিলাসী প্রকল্পটি ২০২৪ সালে অনুমোদনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর প্রকল্পটি সাময়িক থমকে গেলেও, আমলারা এখন চতুরতার সাথে শুধু নাম থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘বর্ধিত ক্যাম্পাস’ নাম দিয়ে পুরো ফাইলটি ফের ঘষামাজা করে পাস করিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত তোড়জোড় চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।