পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় যৌতুক ও পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী ও শাশুড়ির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে ঝালকাঠির কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন এক গৃহবধূ। নির্যাতিত ওই গৃহবধূর রিমি আক্তার তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা ওই গৃহবধূর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে এবং বিভিন্ন পারিবারিক কারণে তাঁর ওপর প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। সর্বশেষ গতকাল স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে জখম করে। একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার রিমি আক্তার নিজের জীবন বাঁচাতে এবং কোনো উপায় না পেয়ে পাশ্ববর্তী ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবে এসে পৌঁছান। প্রেস ক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং তাঁর ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের বিবরণ দেন। এ সময় তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখতে পাওয়া যায়।
নির্যাতিত গৃহবধূ রিমি আক্তার জানান, “বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শাশুড়ি আমার ওপর নানা অজুহাতে অত্যাচার চালিয়ে আসছে। আমি অনেক সহ্য করেছি। কিন্তু তারা আমাকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। আমি কোনোভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় নিয়েছি। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই এবং আমার নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন এবং ওই গৃহবধূকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
খবর লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এলাকার সচেতন মহল এই নির্মম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন।