স্পোর্টস রিপোর্টার: , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

ইতিহাসের সেরা লড়াই কি অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপে?

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেখানে শুধু দুই দলের লড়াই নয়, মুখোমুখি দাঁড়ায় দুই ভিন্ন বাস্তবতা! ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচটি ঠিক তেমনই এক গল্প। একদিকে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়া ছোট্ট আফ্রিকান দেশ।

শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তির সামনে এবার দাঁড়াবেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যাকে খুব কম ফুটবলপ্রেমী চিনতেন, এখন তিনিই দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা।

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রা যেন এক রূপকথা। প্রথম আসরেই তারা স্পেনের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে জায়গা করে নেয় নকআউটে। তাদের এই সাফল্য ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বিস্ময়।

কিন্তু এবার সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফুটবল ইতিহাস, অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য-সব দিক থেকেই দুই দলের পার্থক্য বিশাল। ১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপ খেলছে আর্জেন্টিনা। তাদের ট্রফি তিনটি, কোপা আমেরিকার শিরোপা ১৬টি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনই গঠিত হয়েছে ১৯৮২ সালে। বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম অংশগ্রহণ।

শুধু ইতিহাস নয়, আর্থিক মূল্যেও দুই দলের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষণী তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা দলের বাজারমূল্য প্রায় ৮০৭ মিলিয়ন ইউরো। বিপরীতে কেপ ভার্দের পুরো স্কোয়াডের মূল্য মাত্র ৫৪.৫ মিলিয়ন ইউরো। এমনকি আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশের পাঁচজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত বাজারমূল্যই কেপ ভার্দের পুরো দলের চেয়ে বেশি।

তবু ফুটবল কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়। সেটি কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়েছে। এখন তাদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা-মেসির আর্জেন্টিনা।