রিপোর্টারের নাম , আপলোডের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

নাটকীয়তা ছড়ানো রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

একেই বলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন! যে ম্যাচে ০-২ গোলে পিছিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা, সেখানেই কিনা রুদ্ধশ্বাস নাটক উপহার দিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতল ৩-২ গোলে। এই জয় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লিওনেল মেসির দল।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই আবেগ প্রবণ হয়ে ওঠেন মেসি। ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করে দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর দ্বিতীয়ার্ধে এসে তিনি ত্রাণকর্তা!

খেলার ৬৭ মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে গিয়ে মনে হচ্ছিল যেন বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু তখন অনেক নাটক বাকি। অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা চলে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। আর বিদায় নিল মিসর।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে আজ অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে তিনটি গোল করে দুর্দান্ত এই জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার ভাসিয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালে বল জড়িয়ে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল হজমের পর দ্রুতই সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে ২১তম মিনিটে পেনাল্টি পায় দলটি। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল মেসির চতুর্থ মিস। চলতি আসরেও এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি ব্যর্থতা।

প্রথমার্ধজুড়ে আর্জেন্টিনা একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও মোস্তফা শোবেইর দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন। ২৮তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, পরে হুলিয়ান আলভারেজের শটও তিনি রুখে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে মিশরের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের ঘন রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের। এক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকো বল জালে জড়ালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।

এরপর ম্যাচের শেষ ভাগে বদলে যায় দৃশ্যপট। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। অফসাইডের আবেদন করেও স্বস্তি পায়নি মিশর।

মাত্র চার মিনিট পর ৮৪তম মিনিটে নিজেই গোল করে সমতা ফেরান মেসি। তার জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে জড়িয়ে পড়ে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল। পাশাপাশি টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সমতায় ফেরার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বল দারুণ হেডে জালে পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। ৯২তম মিনিটের সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে তিনটি গোল করে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।