মো:মাইন, আদমদীঘি(বগুড়া) প্রতিনিধি :  , আপলোডের সময় : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

অবহেলায় বিলুপ্তির পথে রাণী ভবানীর বাপের বাড়ি

বাংলার কিংবদন্তি দানবীর রাণী ভবানীর জন্মভিটা ও পিতৃগৃহ আজ অবহেলা, দখল এবং সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তির পথে। বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে কেবল একটি ভগ্নপ্রায় দেয়াল টিকে আছে, আর চারপাশ জুড়ে গজিয়ে উঠেছে বাঁশঝাড় ও ঝোপঝাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির অধিকাংশ জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় ইতিহাসের এই অমূল্য নিদর্শন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭১৬ সালে এই ছাতিয়ানগ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন মহারাণী রাণী ভবানী। পরবর্তীতে নাটোরের জমিদার রাজা রামকান্তের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিশাল জমিদারি পরিচালনা করে বাংলার ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। তাঁর দানশীলতা, শিক্ষা, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজও মানুষের কাছে অনুকরণীয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে রাণী ভবানীর বাপের বাড়ির শেষ স্মৃতিচিহ্ন। দ্রুত প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাণী ভবানীর পিতৃগৃহকে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ হিসেবে উন্নয়ন করুক। একই সঙ্গে দখলমুক্ত করে সীমানা নির্ধারণ, সংস্কার এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে এটি দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে নতুন পরিচয় পাবে এবং পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

উপপরিচালক (প্রশাসন): সিটিজেন চার্টার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বলেন তিনি এ বিষয়ে জানেন না বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ তিনি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন ছাতিয়ানগ্রামে অবস্থিত রাণী ভবানীর বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে এবং সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।