আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

আমতলীতে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ববিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগকারী জুয়েল খান জানান, তার চাচা আলী হোসেন খানের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাচাতো ভাই সুমন খান (রুবেল) তাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। এ সময় তার মাকে মারধর করা হলে স্ত্রী রুনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে রুনা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য আগামী ২৫ জুলাই সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশের আগেই গত ১৮ জুলাই সুমন খান নিজ ঘরে চুরির নাটক সাজান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি অসত্য প্রমাণিত হলে পরদিন ১৯ জুলাই নিজের ঘরের বিছানায় আগুন দিয়ে জুয়েল খানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর জুয়েল খান আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুয়েল খানের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সুমন খান (রুবেল), লিটন খান, আলী হোসেন খান, তাদের জামাতা মঞ্জুসহ কয়েকজন পটুয়াখালী থেকে আনা লোকজন নিয়ে তার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় গোয়ালঘর, বাথরুম ও রান্নাঘর ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ঘরের চালের ডামে রাখা নগদ ১ লাখ ৩ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া কানের দুল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন জুয়েলের স্ত্রী রুনা বেগম।

এ ঘটনায় ২১ জুলাই দুপুরে জুয়েল খান আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত আলী হোসেন খান হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ রয়েছে। সেই কারণেই আমরা তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছি।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াকুব হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।