নিজস্ব প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

আওয়ামী লীগের দোসর বিএডিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুনীতি অনিয়ম অভিযোগ

পর্ব-১​ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে সংস্কার ও অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চললেও ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বিএডিসি’র (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পতিত রাজনৈতিক সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে নজিরবিহীন দুর্নীতি, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনও অধরা।

​স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অতীত অপকর্ম ঢাকতে রাতারাতি খোলস পাল্টেছেন এই কর্মকর্তা। স্থানীয় কয়েকজন সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে নতুন করে দাপ্তরিক আধিপত্য ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এতে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও ভুক্তভোগীরা।

​সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা

​অভিযোগে জানা যায়, বিগত জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়, তখন সরকারি চাকরির আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সরাসরি মাঠে নামেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান। আন্দোলন চলাকালে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মিছিলে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সাথে যোগ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশরীরে লাঠিচার্জ ও হামলায় অংশ নেন তিনি। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ক্যাডারসুলভ ভূমিকার প্রত্যক্ষদর্শী প্রমাণ থাকলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো দাপ্তরিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

​বিআরটি প্রকল্পে দুর্নীতির রামরাজত্ব

​বিএডিসি’র অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিআরটি (BRT) প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে ব্যাপক লুটপাটের চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের অভিযোগ:

​টেন্ডার সিন্ডিকেট: মোস্তাফিজুর রহমান পদে থাকার সুবিধা নিয়ে পছন্দের দলীয় ঠিকাদারদের নিয়ে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকারি কাজের সিংহভাগ বরাদ্দই নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাদের পাইয়ে দেওয়া হতো।

​ভুয়া বিল ও নিম্নমানের কাজ: প্রকল্পের নথিপত্রে ও কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেক স্থানে আংশিক কাজ করে বা কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

​বিপদের মুখে কৃষি ও যাতায়াত: খাল খননের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হলেও বাস্তবে জরাজীর্ণ রূপ ধারণ করেছে নির্মিত গার্ডার ব্রিজগুলো। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

​এছাড়া, বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতেও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও প্রভাব বিস্তারে তিনি প্রশাসনের ভেতর থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

​সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির জোর দাবি

​একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিগত সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে থাকেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

​স্থানীয় সুশীল সমাজ, সংবাদকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিএডিসি’র বিআরটি প্রকল্পের যাবতীয় কাজের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে দ্রুত অপসারণ করে আইনের আওতায় আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।