নিজস্ব প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ভুয়া বিলে কোটি টাকা আত্মসাত, নেপথ্যে হাবিবুল্লাহ-মাহবুব সিন্ডিকেট

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ ও সাময়িক বরখাস্ত কৃত সাবেক উপ পরিচালক প্রশাসন মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ এর নেতৃত্বে নিয়োগ, বদলী বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের কৃষি খাতের উন্নয়ন মূলক কাজের বিপরীতে বরাদ্দের সিংহ ভাগ টাকা ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে হাতির নিয়েছেন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ ও সাবেক উপ পরিচালক প্রশাসন মাহবুবুর রশীদ, সাবেক উপ পরিচালক লিসাসা, হাসিবুল হাসান। পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহের গঠিত সিন্ডিকেট বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে ডিএইতে। মাহবুব বিভিন্ন আর্থিক এর দুর্নীতির কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও এখন সক্রিয় ভূমিকায় রাজত্ব করে যাচ্ছেন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ নেতৃত্বে। এই ৩ কর্মকর্তা ও তাদের সিন্ডিকেট বাহিনী বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন ডিএইতে। এখনো বহাল তরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে খামারবাড়িতে। হাসিবুল হাসানে কর্মস্থল মানিক গঞ্জে হলেও এখন ডিএইতে তদবিরে ব্যাস্ত সময় পার করছেন তিনি।

সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৫ সালে কেয়ারটেকার সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে ৯১ জন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও ৩১ জন ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন মাহবুবুর রশীদ। পরবর্তীতে পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ সেই সকল প্রার্থীদের যোগদান করান তার নেতৃত্বে। এই ২ কর্মকর্তার যোগসাজশে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নিকট থেকে ১২/১৩ লাখ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের বিপরীতে ও ড্রাইভার পদের বিপরীতে ৬/৮ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে চাকরি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন মাহবুবুর রশীদ ও হাবিবুল্লাহ্। সাবেক পরিচালক প্রশাসন মাহবুবুর রশীদ এর কথার বাহিরে কেউ মুখ খুলতে সাহসও পেতেন না। ডিএইতে সাধারন সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে আতংকের আরেক নাম ছিল মাহবুবুর গং?

সূত্রে আরও জানা যায়, এই সকল নিয়োগের সময় তৎকালীন মহা পরিচালক এর দায়িত্বে ছিলেন সাইফুল আলম। খেলার পুতুলের মতম ছিলেন সাবেক মহা পরিচালক সাইফুল আলম। বসতে বল্লে বসতো, আবার উঠতে বল্লে উঠতো মহা পরিচালক। এক কথায় নিরুপায় হয়ে পড়েছিলেন সাবেক ডিজি।

মহা পরিচালকের নির্দেশ কে উপেক্ষা করে লীগের ক্ষমতার পালাবদল পরে বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের, বদলী বাণিজ্য করে, নিয়ম কে অনিয়মে জর্জরিত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলো মহা দুর্নীতিবাজ এই ৩ কর্মকর্তা। গত ১২/৫/২৫ তারিখে, স্মারক নং ১৬৫৬, মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে সাবেক উপ পরিচালক প্রশাসন মাহবুবুর রশীদ কে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। কারন দর্শানোর আদেশ কে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবটি সন্তোষজনক নই, তাছাড়া ৪/৪/২৫ তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশ তিন কর্মদিবসে মধ্যে মহা পরিচালক বরাবর দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হলেও মহা পরিচালককে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে যথাসময়ে দাখিল না করে ১৭/৪/২০২৫ তারিখে দাখিল করেন যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করেন মাহবুবুর রশীদ। পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ পিআরএলকে সামনে রেখে তার নেতৃত্বে চলছে হরিলুট, রম রমা কমিশন বদলী বাণিজ্য।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, নিয়োগ সংক্রান্ত প্রার্থী সংগ্রহ করার দায়িত্ব পান সাময়িক বরখাস্ত কৃত সাবেক উপ পরিচালক প্রশাসন, মাহবুবুর রশিদের ড্রাইভার রাজ্জাক। ড্রাইভার আলমগীর হোসেন, বর্তমানে কুষ্টিয়া উপ পরিচালকের কার্যালয়ে কর্মরত, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন হওয়ার পরে কাজী পাড়াতে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন ড্রাইভার আলমগীর। ড্রাইভার আবুল কালাম (১) ড্রাইভার আবুল কালাম (২) ড্রাইভার নজ রুল, ড্রাইভার হুমায়ুন কবির লিটন, সহ এই সকল ড্রাইভার দের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত দের কাছ থেকে ব্যাক্সিতগত কর্মকর্তা পদের জন্য ১২/১৩ লাখ, ড্রাইভার পদের জন্য ৬/৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে, প্রক্সির মাধ্যমে, প্রশ্ন সরবরাহ করে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের ব্রিটেন / ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে কারসাজির মাধ্যমে চাকরি প্রদান করেন এই ২ কর্মকর্তা। নিয়োগ প্রাপ্তদের তাদের ড্রাইভার দের মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে চাকরি প্রদান করেছেন তারা। ঘুষের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া একাধিক প্রার্থীর কল রেকর্ড আজকের সংবাদ এ-র হাতে আছে। একাধিক সূত্রে আরও জানা যায়, পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ যোগদানের পর হতে ঘুষ দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন, তার ক্যাশিয়ার নামে সু পরিচিত, প্রশাসন শাখার উচ্চমান সহকারী আমির হামজা, প্রধান সহকারী লীগের দোসর হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের বিপরীতে ১০% কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন। বদলী বাণিজ্য, তেল চুরি, প্রশাসন শাখার অধীনে ৮ টা উইংয়ে ১৪ টা অঞ্চলে ১৮ টা এটিআই, ৭২ টি হর্টিকালচার সেন্টারের মেরামত সংস্কার কেনাকাটা সহ অন্য পন্থায় কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ্। নিয়োগ প্রাপ্ত ড্রাইভার বরগুনায় কর্মরত মোখলেছিন, ঘাটাইলে হর্টিকালচার সেন্টারের কিশোর গঞ্জে আতাউর, খামারবাড়ি তে রিয়াজুল ইসলাম, মিজান, বাহাদুর, নূর আলম, দাস বাবু পাবনায় হর্টিকালচার সেন্টার কর্মরত। হাবিবুল্লাহ ও মাহবুবুর রশীদ গংদের নিয়োগ প্রাপ্ত ড্রাইভার ও ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে গোপনে জিজ্ঞাসা করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ডিএইর একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এছাড়াও উল্লেখিত ড্রাইভার দের জিজ্ঞাসা করলে টাকার বিনিময়ে চাকরির বিষয় আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। গোপন সূত্রে জানা যায়, পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ চলতি মাসের ১৮/৬/২৬ তারিখে পি আর এল এ যাবেন সেই কারণ বেপরোয়া হয়ে মাহবুবুর রশিদ গংদের সাথে আতাত করে ঘুষ দুর্নীতি চালিয়ে গেছেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন এই ২ কর্মকর্তা। উল্লেখিত অভিযোগ এর বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ মোবাইলে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেন নাই। তবে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠালে তার বক্তব্যে জানান, জনাব, আমার সময়ে কোন ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা বা ড্রাইভার নিয়োগ হয় নাই, আপনি ভুল তথ্য পেয়েছেন, আপনি কেন এসব ভূয়া নিউজ করতেছেন বলে খুদে বার্তা পাঠান এই প্রতিবেদককে মোবাইলে।

সাময়িক বরখাস্ত কৃত সাবেক উপ পরিচালক প্রশাসন মাহবুবুর রশীদ এর মোবাইলে ফোন দিয়ে তাঁর আমলে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে টাকার বিনিময়ে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে জানান, তার আমলে নাকি নিয়োগ হয়নি, নিয়োগ হয়েছে পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ এর আমলে।

মাহবুবুরের প্রতিনিধি হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট না করার জন্য +১৫৬৬৫৯৬৬১৩৭০ এই নাম্বার থেকে abc international group থেকে ফোন করে জনৈক সোহাগ নাম বলে এই প্রতিবেদককে বলেন? দিন কাল কেমন যাচ্ছে, প্রতিবেদককে বলেন, আরামে আছেন তো? আরাম হারাম করে দিব? তোকে মেরে ফেলবো? বাসা থেকে কলমা পড়ে বাহির হবি? আমরা প্রতিদিন ২/১ টা করে মার্ডার করি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তারা জানান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারবাড়ি কর্মকর্তা দের অনুসারী দিয়ে বদলী হওয়া ও দুর্নীতি গ্রস্ত কর্মকর্তারা হুমকি দিতে পারে, যাতে করে এই প্রতিবেদককে খামারবাড়ি কর্মকর্তা দের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ না করে। হুমকি দাতার কল রেকর্ড প্রতিবেদক এর হাতে সংরক্ষণ রয়েছে।