নিজস্ব প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বিআরটিসিতে ‘জামিল সিন্ডিকেট’: এক বছরে দুই বদলি, কোটি টাকার সুবিধা বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তা মো. জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি–বাণিজ্য, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন এবং এক ঠিকাদারকে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ভুক্তভোগী পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামিল হোসেন গাবতলী ডিপো থেকে টুঙ্গিপাড়া ট্রাক ডিপোতে বদলি হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই বদলি নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঘুষের লেনদেন হয়েছিল। এর এক বছরের মাথায় তিনি আবার টুঙ্গিপাড়া ট্রাক ডিপো থেকে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে বদলি হয়েছেন। চলতি মাসের ২৫ তারিখে তাঁর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিআরটিসির একাধিক সূত্রের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে এবারও প্রায় ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। তাঁদের দাবি, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জামিল হোসেনের দুটি বদলিকেই কেন্দ্র করে মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের ভাষ্য, জামিল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংস্থার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে পদায়ন ও বদলির সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুধু বদলি–বাণিজ্য নয়, ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঠিকাদার মোহাম্মদ আবুল হাসান অভিযোগ করেন, জামিল হোসেন গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে তাঁকে হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় জামিল হোসেনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেলেও এর অগ্রগতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, বদলি–বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন এবং ঠিকাদার নির্যাতনের মতো অভিযোগ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. জামিল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে উল্লিখিত অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।