মনজুর মোর্শেদ তুহিন (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় ছিনতাই, মারধর ও চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শাকিল হাওলাদার (২২), মো. রাহাত বিশ্বাস (২৩) ও মো. তুহিন বাদশ (২২)। তারা পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সদর থানার মামলা নং-৬০ (তারিখ: ২৬ জুলাই ২০২৬)-এর এজাহারের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই সকালে এক রিকশাচালককে ভাড়া দেওয়ার কথা বলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালের পরিত্যক্ত একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে তাকে অবৈধভাবে আটকে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ৭২০ টাকা ও প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত রিকশাচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড এবং পরিত্যক্ত ভবনকে কেন্দ্র করে রোগী, রোগীর স্বজন ও রিকশাচালকদের টার্গেট করে ছিনতাই, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদকসেবনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেকেই বিভিন্ন সময় হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের বিরুদ্ধে সদর থানায় এর আগেও একাধিক অভিযোগ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে তিনজন গ্রেপ্তার হলেও চক্রের আরও সদস্য পলাতক রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। হাসপাতাল এলাকাকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত পুলিশি টহল, পরিত্যক্ত ভবনে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পূর্বের একটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মামলার তদন্তে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।