নিজস্ব প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক মাহফুজ উল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক শরীফ আহম্মদ মাহফুজ উল আলম মোল্লা-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের নানা অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং স্থানীয় মহলে উঠেছে।

সরকারি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগগুলো মূলত বন্দর ইজারা এবং উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনাকে কেন্দ্র করে তৈরী হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের দুর্নীতি ও অভিযোগের সাধারণ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

মূল অভিযোগের ক্ষেত্রসমূহঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ:

ঘাটের ইজারা বরাদ্দ কিংবা অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজে বিশেষ কোনো পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি তার নিজের পছন্দের লোকদের কমিশনের চুক্তি করে কাজ পাইয়ে দেন। এর বিনিময় তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

 

কমিশন বাণিজ্য  ও পদমর্যাদার অপব্যবহার:

কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিল পাস করানোর বিপরীতে নির্দিষ্ট অংকের অবৈধ কমিশন বা উৎকোচ দাবি করা।তাছাড়া প্রশাসনিক ক্ষমতা খাটিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানীয় ঘাট বা শুল্ক আদায় পয়েন্টগুলো থেকে আয়ের একটি বিরাট অংশ নেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ-তে সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযান দুদকের পদক্ষেপ:

সাম্প্রতিক সময়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে, তেলের ঠিকাদারি দেওয়ার নামে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েচিল নারী কেলেঙ্কারির কারনে এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে সংস্থার বন্দর ও পরিবহন বিভাগের সাবেক ডিরেক্টর এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিনের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদেরও চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বেনামি অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান:

এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তার নামে-বেনামে কেনা ড্রেজার, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও স্ত্রীদের নামে জাহাজ কেনা সংক্রান্ত অবৈধ অর্থের সন্ধান করছে দুদক। এর মধ্যে চাঁদপুর নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক শরীফ আহম্মদ মাহফুজ উল আলম মোল্লার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম-পরিচালক মাহফুজের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ও কমিশন বাণিজ্যের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিবে বলে জানা গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন এখনই এসব দূর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে এদের লাগাম টানা অসম্ভব হয়ে পড়বে।