মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

কামিল পাস করেও চাকরির অপেক্ষা নয়, ফাস্টফুড ব্যবসায় সফল শারমিন

চাকরির আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা না করে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিয়েছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালীর কামিল পাস তরুণী উদ্যোক্তা শারমিন আক্তার। স্বামী রাব্বি মল্লিকের সঙ্গে নিজ হাতে বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড ও জন্মদিনের কেক তৈরি করে গড়ে তুলেছেন ‘কলেজ কর্নার ফাস্টফুড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অল্প সময়ের মধ্যেই মানসম্মত ও তাজা খাবারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা রাব্বি মল্লিক জানান, এই সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার সহধর্মিণী শারমিন আক্তারের। সংসার, দুই ছোট সন্তানের দায়িত্ব এবং পারিবারিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি প্রতিদিন ৩০টিরও বেশি ধরনের ফাস্টফুড আইটেম ও বিভিন্ন ডিজাইনের জন্মদিনের কেক নিজ হাতে প্রস্তুত করেন। পাশাপাশি রান্নাঘরের সার্বিক কার্যক্রমও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন।

রাব্বি মল্লিক বলেন, অনেকেই জানতে চান প্রতিষ্ঠানে নারী ম্যানেজার কেন রাখা হয়েছে। তিনি জানান, শারমিন রান্নাঘরের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকায় গ্রাহকদের অর্ডার গ্রহণ, খাবার পরিবেশন এবং সামনের সার্ভিস নির্বিঘ্ন রাখতে একজন নারী ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের দুই ছোট সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন তার মা, শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবারের এই আন্তরিক সহযোগিতা না থাকলে ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়া এতটা সহজ হতো না।

খাবারের মান নিয়ে রাব্বি মল্লিক বলেন, “আমরা নিজেরা যে খাবার নিশ্চিন্তে খেতে পারি, সেই মানের খাবারই গ্রাহকদের পরিবেশন করার চেষ্টা করি।” এ লক্ষ্যেই প্রতিটি খাবার তাজা উপকরণ ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সর্বোচ্চ যত্নের সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা পরিচালনা নয়; বরং গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা। কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি হলে তা দ্রুত সংশোধনের চেষ্টা করা হয়, যাতে একজন সন্তুষ্ট গ্রাহক বারবার ফিরে আসেন এবং অন্যদের কাছেও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে দেন।

রাব্বি মল্লিক বলেন, সহধর্মিণীর ত্যাগ, পরিশ্রম ও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার প্রতি তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন সবসময় হালাল উপায়ে, সততা, ভালোবাসা ও মানসম্মত খাবারের মাধ্যমে মানুষের সেবা করে যেতে পারেন।