বরগুনার আমতলী পৌরসভার তিন নং ওয়ার্ডের খোন্তাকাটা এলাকার পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী হাজী বাড়ির বাইতুল মামুর জামে মসজিদে পয়োবর্জ্য ও নোংরা পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মুসল্লিরা। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ওজু ও নামাজ আদায়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ ও চলমান মামলার কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের নির্মাণ, সংস্কার কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের বিভিন্ন সমস্যা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
মুসল্লিদের অভিযোগ, মসজিদে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ওজুখানা ও শৌচাগারের ব্যবহৃত পানি এবং পয়োবর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে দুর্গন্ধযুক্ত পানি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকায় মশা-মাছিসহ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। এর ফলে মসজিদের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে এবং নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, পবিত্রতা বজায় রেখে ওজু করা এবং স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরাও এ অবস্থায় চরম অস্বস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।
তাদের দাবি, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং এটি সবার জন্য একটি পবিত্র আমানত। তাই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলার জটিলতা দ্রুত নিরসনের মাধ্যমে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আইনগত সমাধান করে মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে মসজিদে আগত মুসল্লিরা স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইবাদত করতে পারেন।