আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

আমতলীতে ৫ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ধস, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের অন্তত ৩০০ ফুট অংশ দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণে অনিয়মের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে বরগুনা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়। কাজটি পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির হয়ে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছেন চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ ছিল। এসব অনিয়মের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা কামাল ও শহীদুল ইসলাম।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালীবাড়ী এলাকায় সড়কের দুটি স্থানে প্রায় ৩০০ ফুট অংশ দেবে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশে লাল কাপড় টাঙিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের এমন অবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব বলেন, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন সড়ক দেবে যাওয়ায় সেই অভিযোগই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান বলেন, “কাজ এখনও চলমান। যেখানে সড়ক দেবে গেছে, সেখানে পুনরায় নির্মাণকাজ করা হবে।”

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খালের পাশ দিয়ে সড়ক হওয়ায় ওই অংশ দেবে গেছে। ঠিকাদারকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে কোনো বিল দেওয়া হবে না।”

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সড়কটির নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।