আদমদিঘী (বগুড়া) প্রতিনিধি , আপলোডের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

আদমদীঘিতে তালাবদ্ধ শয়নঘরে ঢুকতে পুলিশের সহায়তা; অতঃপর নিজেই হলেন অভিযোগের শিকার

বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রবাস থেকে ফিরে প্রতিপক্ষের দ্বারা তালাবদ্ধ শয়নঘরে ঢুকতে না পারায় পুলিশের সহায়তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন রবিউল ইসলাম। তবে থানায় বসে বিষয়টির মীমাংসা না হয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের করা নাটকীয় অভিযোগের শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামে। শুধু তাই নয় ওই গ্রামের স্থানীয় ক্লাবে চেয়ার, ব্যানার পুড়িয়ে দায়ভারও চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টাও চলছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, রবিউল ফকির জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান তার ব্যবহৃত শয়নকক্ষে তালা দিয়ে সেটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম ফকির ওই ঘরে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রবিউল। ঘরের তালা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্নজনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রবিউল ফকির। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে থানায় উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিরোধপূর্ণ ঘরের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ঘরের তালা খুলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে হামিদুল ফকিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রবিউল ফকিরসহ কয়েকজন তার ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় হামিদুল তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে রবিউল ফকির, শাহিনুরসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে রবিউল ফকিরের পক্ষ থেকে অভিযোগটি সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবী, ওইদিন কোনো মারধর বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি ঘরের তালা খোলা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে শুধু কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়েছিল।
পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, কথিত মারধর বা শ্লীলতাহানির ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিরোধের মধ্যে নতুন করে একটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী অরাজনৈতিক ক্লাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার রাতে কে বা কারা ক্লাবটিতে হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা একটি ভাঙা চেয়ার ও একটি ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার দায়ও রবিউল ফকির ও তার সহযোগীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পক্ষের লোকজন।

এ ঘটনায় আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি মারামারি বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে, সঠিক হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।