নিজস্ব প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে ফুটবল উদ্বোধনের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে বিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা উদ্বোধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে প্রধান শিক্ষককে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে তাঁর বিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পদধারী নেতাকর্মীদের দিয়ে ফুটবল খেলা উদ্বোধন করা হয়েছে—এমন তথ্য ‘কলাগাছিয়ার হালচাল’ নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ‘গলাচিপার ডাক’সহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে কেন ফুটবল খেলা উদ্বোধন করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার পরও কেন তাদের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা হয়েছে—তার কারণ লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের ছয় পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষা উপপরিচালক, পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা হয়ে থাকলে তা কীভাবে ঘটল, কার অনুমতিতে ঘটল এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় সামনে এসেছে।

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশটি কারণ দর্শানোর পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

এখন প্রধান শিক্ষকের লিখিত ব্যাখ্যায় কী উঠে আসে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এ বিষয়ে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।