বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৩৫ নং এন. কে. রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অনিমেশ দেবনাথের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তাব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেবী রানী দেবনাথ। এ সময় সহকারি শিক্ষক অনিমেশ দেবনাথ ও তার স্ত্রী শ্রাবণী দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক বেবী রানী দেবনাথ বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক অনিমেশ দেবনাথের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রনোদিত বানোয়াট। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও বিতরণের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তিনি সকল শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্যাকেট খুলে নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। ফলে বিদ্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সহকারী শিক্ষক অনিমেশ দেবনাথ বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
এদিকে অনিমেশ দেবনাথের স্ত্রী শ্রাবণী দেবনাথ অভিযোগ করে বলেন, তাকে ও তার স্বামীকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমার স্বামীর প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছি এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার স্বামীর মোবাইলে আমি এমন কোনো কিছু দেখতে পাইনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪-৫ ব্যক্তি তার কাছ থেকে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক বেবী রানী দেবনাথ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তার বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
প্রধান শিক্ষকের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় ১নং ওয়ার্ডের জামায়াত ইসলামীর সভাপতি ডা. জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। এখানকার শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন।