বুধবার (১৯ আগস্ট) কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে এসে পৌঁছেছে। নিহত সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে এ ঘটনার পর কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা-ইনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে শনিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর ঝাড়খন্ডের ধানবাদে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
ধানবাদ থেকে কলকাতার বেহালার বাড়িতে ফিরে আসার পর শনিবার কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বীরেশ্বর মিত্র।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর থেকেই কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ শনিবার সকালে ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। পরে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের তিন সদস্য আফসানা শারমিন, শর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলী; একই পরিবারের চারজনের মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে শনিবার বিকেলে দেশে আনা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার আমিনবাজারের বাবু আহমেদের মরদেহও একই সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আনা হয়।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।
সপ্তম ব্যক্তি সাতক্ষীরার নিহত রেপতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী শুক্রবার রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন আর্থিক ও অন্যান্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দুর্ঘটনায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে আটক বীরেশ্বর মিত্রের বিষয়ে পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর কলকাতায় বীরেশ্বরের দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এ খবর পাওয়ার পর এবং নগদ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। বাড়িতে ফিরলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।