এম আর বাবুল ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ : , আপলোডের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

মতবিনিময় সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সরকারি সেবা প্রদানে হয়রানি যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেন, জনগণের কল্যাণই সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণ যাতে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না এবং প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না—সেটি নিয়মিতভাবে তদারকি করতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাহীনভাবে এগিয়ে যায়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করাও জরুরি।

তিনি সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জনগণের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো দ্রুততার সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জেলার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জেলার জনসাধারণকে কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করার বিষয়ে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম, চলমান ও বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতামত প্রদান করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে সরকারের প্রতিটি দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি আন্তঃদপ্তর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সভায় কিশোরগঞ্জকে আরও নিরাপদ, উন্নত ও জনবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি, কার্যকর সমন্বয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।