আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ , আজকের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমতলী পৌর লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ বন্ধ, তদন্তে ইউএনওর চিঠি

বরগুনা আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল (ডেক প্ল্যাটফর্ম) ধসে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে আপাতত প্রকল্পের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আমতলী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত এবং ড্রপওয়াল ধসে পড়ার কারণ জানতে প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন।

আমতলী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “কাজে অনিয়ম এবং ড্রপওয়াল ধসে পড়ার কারণ জানতে প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বরিশাল প্রকল্প অফিসের সুপারভিশন টিম এসে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।”

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান গোপনে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করেন। পরে ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে ঠিকাদার হলেও প্রকল্পের মূল কাজের সঙ্গে সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান স্বপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। গত দুই বছর ধরে তিনি এলাকায় নেই বলেও জানা গেছে।

২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের শুরুতেই ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং পরবর্তীতে ব্যয় কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে আনা হয়। এতে ঠিকাদারপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আবারও কাজ শুরু হলে নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন দেখা দেয়।

এরই মধ্যে রোববার সকালে নির্মাণাধীন লেকের ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল (ডেক প্ল্যাটফর্ম) ধসে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সোমবার বিভিন্ন পত্রিকায় ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

পরে আমতলী পৌর প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ড্রপওয়াল ধসে পড়ার কারণ তদন্তে প্রকল্প পরিচালককে চিঠি দেন।

এখন তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্পের অনিয়ম ও ড্রপওয়াল ধসে পড়ার প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।