রাসেল মিয়া, আমতলী (বরগুনা) , আপলোডের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমতলী পৌরসভার লেক প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ, নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ

বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। পরিদর্শনকালে নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পে ব্যবহৃত রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে বিভাগীয় কমিশনার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ধসে পড়া অংশসহ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের খলিল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসে নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’ সংগ্রহ করা নির্মাণসামগ্রীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় আমতলী পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি নেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা। কাজটির ঠিকাদারি পায় ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

তবে প্রকল্পের নির্মাণকাজ নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি নেওয়া হলেও নির্মাণকাজের সঙ্গে তৎকালীন আমতলী পৌরসভার মেয়র মো. মতিয়ার রহমান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

তবে ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার লাইসেন্স দিয়ে কাজ নেওয়া হয়েছে, এটা সত্য। তবে কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক পৌর মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়ে। এ ঘটনার পর নির্মাণকাজের মান, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং প্রকল্পের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

যদিও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দাবি, প্রকল্পের মূল পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ার কারণে ওয়াকওয়ের ওই অংশ ধসে পড়ে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ও কাজের গুণগত মান যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, শুধু ধসে পড়া অংশ নয়, প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া সব কাজের গুণগত মান যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শন এবং নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহের পর প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল ও পরবর্তী তদন্তে প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা স্পষ্ট হবে।