বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাংবাদিক পলাশ শরীফের বাসায় চুরির চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিবেশীরা টের পেয়ে এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় চোর। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি শাবল ফেলে রেখে যায় তারা। একই এলাকায় সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালুর রাস্তা এলাকায় সাংবাদিক পলাশ শরীফের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক পলাশ শরীফ জানান, ঘটনার সময় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বাসায় ছিলেন না। সন্ধ্যার দিকে দুর্বৃত্তরা তার বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করে। প্রথমে বাসার টিনের বেড়া খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাশের বাসার প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় ঘটনাস্থলে একটি শাবল ফেলে যায় তারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে একই এলাকার বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলী খানের বাসার দরজার তালা ভেঙে প্রায় ২০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
প্রতিবেশী আসমা আক্তার জানান, প্রায় এক মাস আগেও তার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি বাসায় না থাকার সুযোগে চোরেরা ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সরালিয়াসহ আশপাশের এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। তার বাসাতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরপর কয়েকটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যার পরও বসতবাড়ির আশপাশে অপরিচিত ব্যক্তিদের চলাচল দেখা যায়। এছাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে রাতের বেলায় কিছু যুবকের নিয়মিত আড্ডা বসে বলে অভিযোগ করেন তারা। সেখানে মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চলে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। রাত হলে ওই এলাকা নিয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এসব ঘটনা তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক পলাশ শরীফের বাসায় চুরির চেষ্টার বিষয়টি মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া শাবলসহ চুরির চেষ্টার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।