আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক: , আপলোডের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আমতলীতে ছাত্রীদের ওয়াস রুমের ভিডিও ধারণ ও উত্ত্যক্ত করা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক বছরেও শাস্তি হয়নি

আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াস রুমে ভিডিও ধারণ এবং উত্ত্যক্ত করা সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম ফারুক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি। প্রতিবেদন প্রদানের এক বছর এক মাস পেরিয়ে গেলেও বহাল তবিয়াতে শিক্ষক রুবেল। এতে ‍ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১০ সালে ইকবাল হোসেন রুবেল সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। চাকুরীতে যোগদানের পরপরই তিনি ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

গত বছর ২৫ মে শিক্ষক রুবেল ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত এবং ওয়াস রুমের ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ব্লক মেইল করে তাদের সঙ্গে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এমন অভিযোগ ছাত্রীদের। এতে ফুসে উঠে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ওই সময় বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক রুবেলের বিচার চেয়ে অভিযোগ দেন। ওই বছর ২৭ মে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ মাহমুদ সেলিম তদন্তে যান। তিনি তদন্তে করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের সঙ্গে লিখিত বক্তব্য নেন। পরে তিনি ওই বছর ৩১ জুলাই সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম ফারুককে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেন।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেনের কর্মকান্ড চাকুরীবিধি ১৯৭৯ এর নৈতিক ঙ্খলন এবং অসদারণের শামিল। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রতিবেদন দেয়ার এক বছর এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক গাজী মোঃ গোলাম ফারুক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তিনি আরো ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কাজের সুযোগ পান। গত ৩১ আগষ্ট ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর ভাই সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেন। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা ডেকে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলকে শাসিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী বলেন, প্রত্যেক ক্লাসে একজন ছাত্রী তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে। নইলে তিনি নানাভাবে মেয়েদের হয়রানী করছেন। তারা আরো বলেন, গত বছর স্যারে ছাত্রীদের ওয়াস রুমে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন। ওই ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে তার সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত করতেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জেনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।

বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। গত বছর আমার বিরুদ্ধে কি প্রতিবেদন দিয়েছেন তা আমার জানা নেই? আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক গাজী মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তা সত্য । কিন্তু তৎকালিন কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন তালুকদার বলেন, শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ দিয়েছিল। ওই ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, শিক্ষক রুবেল ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে শেষবারের মত ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। এরপর যদি কোন অভিযোগ পাই, তার বিরুদ্ধে চাকুরীবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ সেলিম মাহমুদ বলেন, শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে মেয়েকের ওয়াস রুমে ভিডিও ধারন ও অনৈতিক সম্পর্কের সত্যতা পাওয়া গেছে। চাকুরীবিধি ১৯৭৯ এর নৈতিক ঙ্খলন ও অসদাচারনে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।