মোঃ নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: , আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ , আজকের সময় : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মোরেলগঞ্জে ইউপি প্রকল্পের টাকা ও জেলের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি প্রকল্পের অর্থের অনিয়ম এবং এক জেলের নামে বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে ডাকযোগে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের মো. ছত্তার খান নিজেকে পেশাজীবী জেলে দাবি করে অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার নামে বরাদ্দ থাকা চাল তাকে দেওয়া হয়নি। বরং সংশ্লিষ্টরা চাল আত্মসাৎ করেছেন এবং মাস্টাররোলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অপর অভিযোগকারী একই গ্রামের আল-আমীন শেখ অভিযোগ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ ভরাট ও পরিষদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রকল্পের সাইনবোর্ডও টানানো হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে মানসম্মত মালামাল ব্যবহার করা হয়নি এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

আল-আমীন শেখ সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিষদের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. সোহেল রানা কামাল। তিনি বলেন, “দুটি অভিযোগের একটিও সত্য নয়। ছত্তার খানের নামে এবার কোনো চাল বরাদ্দ ছিল না, তাই তিনি চাল পাননি। আর প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেএম জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, “আল-আমীন শেখ প্রকল্প কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। যতটুকু শুনেছি, একজন সদস্যের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অভিযোগের কথা শুনেছি।”

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “ডাকযোগে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এসেছে কি না, তা দেখে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা ও সরকারি অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।